বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অন্ধ সময়ের ডানা - এনামূল হক পলাশ (২০১৬).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

জ্বীন সাধনা

কাজল নামের একটি লোক কালী সাধনা করত
একবার কাজলের কালী মুক্তাগাছার মণ্ডা এনেছিল।
আমি মণ্ডা খেয়েছিলাম মজা করে, আহা কালীর মণ্ডা।
একবার শুকনো লবঙ্গ তরতাজা কাঁচা বানাতেও দেখেছি।
তিন গ্রাম পরে সিদ্দিক মিয়া এতিমখানা খুলেছেন।
তিনি জ্বীন পালেন, পরী বিয়ে করেছেন।
কুর্দিস্থান নামক জায়গায় জ্বীনেরা বাস করেন,
পরীরা কুর্দিস্থান থেকে রাতে এসে দেখা দেন।
সিদ্দীকের পরী পত্নী তাকে একবার হজ্বেও নিয়ে গেছেন,
হজ্ব থেকে ফিরে সিদ্দীক মালাওয়ালা আরবি রুমাল
মাথায় মাথায় ঘুরেন দেশ থেকে দেশে গ্রাম থেকে গ্রামে।
সিদ্দীকের জ্বীনেরা তদবিরও করে থাকেন,
রোগ শোক নানাবিধ সমস্যা তদবিরের অন্তর্ভুক্ত।
নানা বলতেন জ্বীনেরা মিষ্টি খুব পছন্দ করে,
তাদের পা ঘুরানো থাকে উল্টা দিক ধরে।
কুফরি কালাম পড়ে জ্বীনদের বশ করা হয়,
কুফরি কালাম মানে কোরআনের আয়াত উল্টো পড়া।
একসময় আমাদের দিনরাত্রি ছিল জ্বীনময়,
জ্বীন হাজিরের পর টিনের চালে ঝনঝন শব্দ শুনেছি
আরও শুনেছি গাছের ডাল ভাঙার মটমটানি।
জ্বীন পালকেরা হঠাৎ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে,
মানুষেরা নিজেরাই এখন জ্বীন হয়ে যত্রতত্র ঘুরে।

অন্ধ সময়ের ডানা ২৭