এ সুখযামিনী এ নব কামিনী এ আমি নবযুবক।
এ রস ছাড়িয়া পূজায় বসিয়া ধ্যানে রব যেন বক॥
জানি অন্নদারে সে জানে আমারে কি হবে পূজিলে তার
অন্নদা যেমন কতেক তেমন আছয়ে মোর ভাণ্ডারে॥
শঙ্কর ভিখারী সে ত তারি নারী আমি মর্ম্ম জানি তার।
বাপার ভাণ্ডারে অন্ন চাহিবারে দিনে আসে তিন বার॥
কি বলে বামণ অরে চরগণ বধ রে ইহার প্রাণ।
এমন শুনিয়া সক্রোধ হইয়া দেবী হৈলা অন্তর্দ্ধান॥
হুঙ্কার ছাড়িয়া জয়ারে ডাকিয়া বিজয়ারে দিলা পান।
ডাকিনীযোগিনী শাঁখিনী পেতিদী যুদ্ধে হৈল আগুয়ান।
ভাঙ্গি কুঞ্জবনে বধি যক্ষগণে নলকূবরেরে ধরে।
রমণী সঙ্গেতে বান্ধিয়া রঙ্গেতে দিল অন্নদা গোচরে।
অন্নদা ভাবিয়া ব্রতের লাগিয়া শাপ দিলা তিন জনে।
মর্ত্ত্যলোকে যাও নর দেহ পাও রায় গুণাকর ভণে॥
নলকূবরের প্রাণত্যাগ।
কান্দে নলকূবর দুঃখিত। চন্দ্রিণী পদ্মিনী সংমিলিত॥
না জানিয়া করিয়াছি দোষ। দয়াময়ি দূর কর রোষ॥
কেন দিলা নিদারুণ শাপ। ভূমে গেলে বাড়িবেক পাপ॥
শাস্তি দিবা যদি মনে আছে। সুঁখে দেহ শমনের কাছে॥
কুম্ভীপাক রৌরবে রহিব। তথাপি ভূতলে না যাইব॥
ভূমে কলি বড় বলবান্। নাহি রাখে ধর্ম্মের বিধান॥
পাতকিলোকের মাঝে গিয়া। পড়ি রব পাপ বাড়াইয়া॥
ক্রন্দনে দেবীর হৈল দয়া। মর্ম্ম বুঝি কহিছে বিজয়া॥