এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
অন্নদামঙ্গল।
সে বলে লো বটে বটে আমি বড় ঠেঁটা।
গোবিন্দে সুন্দর দেখি চেয়ে রৈল কেটা॥
তার সই বলে থাক জানি লো উহারে।
পথিকেরে ভুলাইয়া আনে আঁখি ঠারে॥
ইহার হইয়া কহে উহার মকর।
গোবিন্দেরে দেখিয়াছে এ বড় পামর॥
চারিমুখা রাঙ্গাটা বরের ভাই হেন।
তার দিকে তোর দিদী চেয়ে রৈল কেন॥
সে বলে নাফানী আলো না জান আপনী।
চাঁদে দেখি দেখিয়াছি তোর সতীপনা॥
এই রূপে কন্দলে লাগিল ঝুটাঝুটি।
ডাকাডাকি গালাগালি মাথা কুটাকুটি॥
দাঁড়াইয়া পিঁড়ায় হাসেন পশুপতি।
হেটমুখে মৃদু মন্দ হাসেন পার্ব্বতী॥
হর হর বলিয়া ডাকিছে ভূত যত।
হরিষ বিষাদে হিমালয় জ্ঞানহত।
ভূতভয়ে এয়োগণ নীরব রহিছে।
ডুকরিয়া ফুকরিয়া মেনকা কহিছে॥
আহা মরি ও মা উমা সোণার পুতুল।
বুড়ারে কে বলে বর কেবল বাতুল॥
পায়ে পড়ে আমার উমার কেশ পাশ।
বুড়ার বিকট জটা পরশে আকাশ॥
আমার উমার দন্ত মুকুতাগঞ্জন।
বায়ে লড়ে ভাঙ্গা বেড়া বুড়ার দশন॥