বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অবনীন্দ্র রচনাবলী দ্বিতীয় খণ্ড.djvu/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

মহামাস তৈল সায়দা-বাদের ময়দা কাশিম-বাজারেব ঘি একটু বিলম্ব কর লুচি ভেজে দি ? কিন্তু তর সইল না। ন-পাড়ার মধু খাতাঞ্চির ডানপিটে ছেলেট। রাস্তায় খেলতে খেলতে আকুল গায়ে খালি পায়ে গোরা ফৌজের সঙ্গ নিয়ে সরাসর পাটনায় গিয়ে হাজির ৷ তখন নানা সাহেবের সঙ্গে লড়াই চলেছে ; সেই মরশুমে চাকরি পেয়ে গেল মধু খাতাঞ্চির কালো ছেলেটা— কাপ্তান সাহেবের বুট পালিশের চাকরি, তার সঙ্গে ঘোডা মলা, চিঠি বওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি অনেকগুলো কাজ যা করতে কু-এক গৎ ইংরিজি শেখা ছাড়া উপায় ছিল না রামধনের । লড়াই যখন শেষ হয়েছে তখন রামধন এতটা ইংরিজি শিখেছে যে সত্যি মিথ্যেয় মিলিয়ে একটা চটি বই লিখেছে— নানা সাহেবের যুদ্ধের ইতিহাস। সেই ইতিহাস সে একদিন সুযোগ বুঝে কাপ্তান সাহেবের খানার টেবিলে ছোটো হাজরীর সঙ্গে পরিবেশন করে বসল। কাপ্তেনের মেম সেটা পড়ে এত খুশি হলেন যে তৎক্ষণাৎ রামধনকে তিনি সাহেবের একজোড়া পুরোনো বুট মায় িক বোতল বুটের কালি উপহার দিলেন এবং সাহেবকে বলে কয়ে এক স্কুট পুরোনো কাপড়ও দেওয়ালেন তাকে । লড়াই-শেষে রামধন সাহেব সেজে এসে হাজির। বইখানাও তার ছিল ছিরামপুর হতে ছাপা আঠারো শত উনপঞ্চাশ খুঃ অব্দে পয়লা এপ্রিলে ! হোলদারি বুট আর মাথামুণ্ডু নানার কাহিনী— এরি জোরে রামধন হয়ে উঠল দেশের একজন কেষ্টবি তার দপদপার চোটে গায়ের লোক শশব্যস্ত হয়ে তার নামে একটা ছড়া রচনা করে 883)