ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
দ্বীপের নিরুদ্দেশ যাত্রা
সেই ভয়ানক অর্দ্ধচন্দ্র-ব্যূহ এমন ভাবে তিন দিক আগ্লে এগিয়ে আসছে যে, মুক্তি লাভের কোন পথই আর খোলা রইল না।
ব্যূহ যারা গঠন করেছে তাদের দিকে তাকালেও বুক করতে থাকে। ছাঁৎ-ছাঁৎ! তারা মানুষ, না অমানুষ? তারা যখন মাটির উপরে পদ সঞ্চালন ক’রে অগ্রসর হচ্ছে তখন তাদের জ্যান্তো মানুষ ব’লেই না মেনে উপায় নেই, কিন্তু দেখলে মনে হয়, যেন দলে দলে কবরের মড়া হঠাৎ কোন মোহিনী-মন্ত্রে পদচালনা করবার শক্তি অর্জ্জন করেছে! এবং এবারেও সবাই লক্ষ্য করলে যে, কেবল দুই পা ছাড়া তাদের প্রত্যেকেরই অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক যেন মৃত্যু-আড়ষ্ট হয়ে আছে!
অর্দ্ধচন্দ্র-ব্যূহের দুই প্রান্ত বিমলদের পিছনকার প্রাচীরের দুই দিকে সংলগ্ন হ’ল, মাঝে থাক্ল একটুখানি মাত্র ফাঁক, যেখানে অবাক ও অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তারা তিনজনে।
এদের উদ্দেশ্য কি? এরা তাদের বন্দী করতে, না বধ করতে চায়? ওদের মুখ দেখে কিছু বোঝা অসম্ভব, কারণ মড়ার মুখের মতন কোন মুখই কোন ভাব প্রকাশ করছে না—কেবল তাদের