অধ্যায় : তিন
‘আত্মা’ নিয়ে বারো রাজপুত্তুরের
তেরো হাঁড়ি
আত্মা দেখতে কেমন? স্বামী অভেদানন্দের মতে মেঘের মত, কুয়াশার মত। [মরণের পারে, পৃষ্ঠা-২৮] স্বামী অভেদানন্দ আরও এক জব্বর খবর জানিয়েছেন—বিজ্ঞানীরা এই কুয়াশার মত আত্মার অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়েছেন, ঐ “বস্তুটির নাম দিয়েছেন ‘এক্টোপ্লাজম’ বা সূক্ষ্ম-বহিঃসত্তা, এটি বাষ্পময় বস্তু এর কোন একটি নির্দিষ্ট আকার নেই। একে দেখতে একখণ্ড ছোট মেঘের মতো, কিন্তু যে-কোন একটি মূর্তি বা আকার নিতে পারে।” [মরণের পারে, পৃষ্ঠা—২৮-২৯]
স্বামী অভেদানন্দের এই বক্তব্য বিষয়ে মাত্র দুটি কথা এই মুহূর্তে বলতে চাই এক: বিজ্ঞান কুয়াশার মত আত্মার অস্তিত্বকে স্বীকার করেনি। দুই: বিজ্ঞান ‘এক্টোপ্লাজম বলতে মেঘের মত, কুয়াশার মত কোনও বস্তুকেই নির্দেশ করে না। এক্টোপ্লাজম (Ectoplasm) বলতে বিজ্ঞানীরা কোষ-এর (cell) অভ্যন্তরস্থ ‘সাইটোপ্লাজম’ নামের জেলির মত বস্তুর বাইরের দিকের অংশকেই নির্দেশ করে।
আত্মাকে দেখতে যে মেঘের মত, কুয়াশার মত, এই যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে কার্পণ্য করেননি অভেদানন্দ। আর প্রমাণ বলতে রস-কষহীন নিছক যুক্তিজাল বিস্তার নয়, বা কোনো অপ্রত্যক্ষ প্রমাণও নয়, হাজির করেছেন এক্কেবারে যাকে বলে ‘হাতে গরম’ প্রমাণ। যারই প্রমাণ পাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে, তাকে সামান্য খরচা করে এক্সরে মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলতে হবে শুধু। ভাবছেন, ছবি তুললে কী প্রমাণিত হবে? স্বামী অভেদানন্দের কথায় বলি, “আমার দেহের কোন অংশ যদি এক্স-রে বা রঞ্জনরশ্মির সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখি, দেখব—হাতের বা দেহের অংশটি কুয়াশাময় পদার্থকণায় পরিপূর্ণ চারিদিকে যেন তারা ঝুলছে। সুতরাং যে দেহকে আমরা জড় পদার্থ বলি আসলে সেটা জড় নয়, তা মেঘের বা কুয়াশার মতো এক পদার্থ বিশেষ।” [মরণের পারে, পৃষ্ঠা-৩২]
২৩