বিশ শতকের শেষ লগ্নে এই অসাম্যের সমাজ-কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী ‘সাংস্কৃতিক মগজ ধোলাই’, ‘চিন্তার যুদ্ধ’—ইতিহাস অন্তত এ-কথাই বলে। সাম্যের সমাজ গড়ার আবশ্যিক শর্ত তাই পাল্টা চিন্তার যুদ্ধে নামা। এই যুদ্ধের আর এক নামই ‘সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’—যে নামেই ডাকুন। চিন্তার যুদ্ধে জয়ী হতে গেলে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যোদ্ধাদের স্পষ্ট ও গভীর ভাবে বুঝে নিতে হবে ‘অসাম্যের সমাজ-কাঠামো’ বা ‘সিস্টেম’-এর নিয়ন্তা কে? কারাই বা নিয়ন্তার সহায়ক শক্তি? সমন্বয়কারী শক্তিই বা কী? চিরায়ত গ্রন্থ ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’-এর এই খণ্ডটিতে যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও ‘মানবতাগী নারীবাদ’-এর প্রবক্তা প্রবীর ঘোষ ‘সিস্টেম’কে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে। সেই সঙ্গে দেখিয়েছেন এই 'সিস্টেম'কে ভাঙার দিশা। 'সিস্টেম' নিয়ে এমন বিশ্লেষণী আলোচনা পৃথিবীর কোনও ভাষায় ইতিপূর্বে লেখা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সে দিক থেকে এই রচনা অবশ্যই ঐতিহাসিক। গ্রন্থে এ-ছাড়াও আছে 'যুক্তিবাদ' প্রসঙ্গে আলোচনা। আছে 'অধ্যাত্মবাদ', ‘আত্মা’, ‘পরমাত্মা’, ‘পরলোক’, ‘পুনর্জন্ম’। বিখ্যাত প্যারাসাইকোলজিস্টদের দ্বারা উল্লিখিত প্রায় সবকটি তথাকথিত ‘গুরুত্বপূর্ণ' কেস লেখক বিপুল অধ্যবসায় খারা সত্যানুসন্ধান চালিয়ে রহস্য উন্মোচিত করেছেন। একই সঙ্গে উম্মোচিত করেছেন মিথ্যা প্রচারে ফুলিয়ে বিশাল বানান অধ্যাত্মবাদী নেতাদের মিথ্যাচার, অজ্ঞতা ও মূর্খতাকে। ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলী এই গ্রন্থ প্রকাশকে ‘সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর পথে এক উল্লেখযোগ্য ও অনিবার্য পদক্ষেপ বলে মনে করে।
পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (চতুর্থ খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৪৩
অবয়ব
(পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (চতুর্থ খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩৪৯ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।