রাতারাতি বিজ্ঞান হয়ে যাবে?
এক সময় পৃথিবীর সংখ্যা-গরিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন
পৃথিবী স্থির, সূর্যই পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিকে গ্রহণীয় মনে করলে
আজও আমাদের ভূকেন্দ্রিক
বিশ্বতত্ত্বকেই মেনে
নিতে হত।
ইতিহাস বলে, বহু ক্ষেত্রেই বিশিষ্ট সংখ্যাগুরুদেরও মতও আবর্জনার মতই পরিত্যক্ত হয়েছে যুক্তির কাছে, বিজ্ঞানের কাছে।
বিবেকানন্দ জ্যোতিষশাস্ত্রের পক্ষে ছিলেন কী বিপক্ষে, বঙ্কিমচন্দ্র জ্যোতিষশাস্ত্রের বিরুদ্ধে কী বলেছেন, এগুলো ‘জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান, কী বিজ্ঞান নয়’—প্রমাণ করার পক্ষে কখনই অকাট্য যুক্তি নয়। এগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা শুধু বিবেকানন্দ বা বঙ্কিমচন্দ্র প্রমুখর জ্যোতিষ বিষয়ে মতামত জানতে পারি মাত্র।
আবারও বলি, বহু বিজ্ঞান-আন্দোলনকর্মী, যুক্তিবাদ-আন্দোলনকর্মী এবং বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ বিষয়ক পত্র-পত্রিকা যেভাবে বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি অবিশ্বাসকেই জ্যোতিষশাস্ত্রের ভ্রান্তির পক্ষে জোরাল যুক্তি ভাসিয়ে দেওয়া অতি সরল কাজ। আর জ্যোতিষীদের পক্ষ থেকে সে কাজ শুরুও হয়েছে।
জনৈক স্ব-ঘোষিত ডক্টরেট উপাধিধারী জ্যোতিষসম্রাট তাঁর লেখা একটি জ্যোতিষ সংক্রান্ত নধর গ্রন্থে ১৮৬ জন বিজ্ঞানীর জ্যোতিষ-বিরোধী মতামতকে ভাসিয়ে দিতে পৃথিবী বিখ্যাত নমস্যঃ, বিজ্ঞানী পিথাগোরাস, টলেমি, বরাহমিহির, ট্রাইকোব্রাহা, গ্যালিলিও, কেপলার, ভাস্কর, শ্রীপতি থেকে শুরু করে এ যুগের বহু বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীদের জ্যোতিষশাস্ত্রের পক্ষে বলিষ্ঠ মতপ্রকাশের কথা উল্লেখ করেছেন।
এক জনপ্রিয় জ্যোতিষী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পুরো পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন মাঝে মধ্যেই। ওই বিজ্ঞাপনে এ-যুগের অনেক রথী-মহারথী সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও বিজ্ঞানী জ্যোতিষশাস্ত্রের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন।
এক সময়কার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘পরিবর্তন’ পত্রিকার ২৪-৩০ নভেম্বর ১৯৮৯ সংখ্যায় জনৈক খ্যাতিনাম জ্যোতিষী তথ্য, প্রমাণ-সহ দেখাতে চেয়েছেন— স্বামী বিবেকানন্দ জ্যোতিষবিরোধী কোনও একটি উক্তি করলেও অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী ছিলেন তাঁর ব্যক্তিজীবনে।
জনপ্রিয় মাসিক শিশু-সাহিত্য পত্রিকা ‘শুকতারা’য় ১৩৯১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় ‘অলৌকিক’ শিরোনামের একটি লেখায় লেখক নটরাজন স্বামী বিবেকানন্দের