বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
১০৩

ঋতুস্নান করে এসে মৈথুন কামনা করেন। ধ্যানস্থ শনি স্ত্রীর দিকে ফিরেও তাকান না। ক্রুদ্ধ স্ত্রী শনিকে শাপ দেন, “তুমি যার দিকে তাকাবে তার শুধু অনিষ্টই হবে।” শনির দৃষ্টিতে গণেশ তাঁর দেবমাথা হারিয়ে ছিলেন। ক্রুদ্ধ গণেশ মাতা দুর্গার অভিশাপে শনি হয়ে পড়ে খোঁড়া। শনির দৃষ্টিতে রাজা হরিশ্চন্দ্রের কষ্ট ও মৃত শোল মাছ জ্যান্ত হওয়ার গল্প অনেকেরই জানা।


 এসবই গেল গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের গল্প। একটু অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরাই। প্রাচীন মিশরীয়দের কল্পনায় পৃথিবীর আকার একটা চৌকো বাক্সের মতো। তলায় মাটি। ওপরে গোল আকাশের ঢাকনা। সূর্য দেবতা—চন্দ্র দেবতা রোজ পানসি বেয়ে এক দরজা দিয়ে আসেন, আর এক দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। প্রতিটি নক্ষত্র হচ্ছে এক একটি দেবতার হাতে ধরা বাতি। চন্দ্রের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ এক শূকরী একটু একটু করে খায় চন্দ্রকে। কখনও সখনও আস্তই গিলে খায়, তখনই হয় সূর্যগ্রহণ।


 ব্যাবিলনীয়দের কল্পনায় পৃথিবীর একটা ফাঁপা পর্বতের মতো। ফাঁপা পর্বতটা ভেসে রয়েছে জলের ওপর। পৃথিবীর নিচের জল ফোয়ারার মতো উঠে এসে সৃষ্টি করে ঝরনার, নদীর। পৃথিবীর ওপরের ওই আকাশটা আসলে একটি গোলক আকারের কঠিন ঢাকনায় ঢাকা জলরাশি। তাইতেই আকাশ সমুদ্রের মতোই নীল। পৃথিবীর ওপরের ওই জল মাঝে মাঝে কঠিন গোলকের ভেতর দিয়ে ঝরে পড়ে। তখন এই জল পড়াকেই আমরা বলি বৃষ্টি। ওপরের গোলকের রয়েছে দুটি দরজা; একটা পুবে, একটা পশ্চিমে। সূর্য ও চন্দ্র প্রতিদিনই পূর্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে আকাশে। আর পরিক্রমা শেষে বিদায় নেয় পশ্চিমের দরজা দিয়ে।


 গ্রিকদের কল্পনায় পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থান করছে গ্রিস। পৃথিবী ঘিরে রয়েছে জল। দেবতা জুপিটারের আদেশে সূর্যকে অ্যাপেলো রোজ রথে চড়িয়ে আকাশ ঘুরিয়ে নিয়ে আসে, সারাদিন ঘোরার পর ক্লান্তি দূর করতে সূর্যস্নানে নামেন সমুদ্রে।


 চীনদেশের মানুষ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের পিছনেও ড্রাগনকে আবিষ্কার করেছে। ড্রাগন যখন সূর্য ও চন্দ্রকে খায়, তখনই হয় গ্রহণ। গ্রহণের সময় চীনারা দারুণ রকম হই-হট্টগোল জুড়ে দেয়। তাদের ধারণায়, এত মানুষী চিৎকারে ভয় পেয়ে ড্রাগনটা চন্দ্র বা সুর্যকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।


 প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানচর্চার মধ্যে এমন সব উদ্ভট কল্পনা ঢুকে পড়লেও প্রাচীন যুগের মানুষরা জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কিছু কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে।