বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

তারা গ্রহ ও নক্ষত্রে পার্থক্য বুঝতে পেরেছিল। তারামণ্ডল দেখে আগত ঋতু নির্ণয় করতে শিখেছিল। সূর্যের আহ্নিকগতি ধরে রাশিচক্রের আবিষ্কার করেছিল।

 তখন অবশ্য পৃথিবীকেই বিশ্বের কেন্দ্র হিসেবে কল্পনা করা হত। তারা ভাবত সূর্য, চন্দ্র এবং সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র একদিনের মধ্যে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। ব্যাবিলনীয়রাই সাতদিনে সপ্তাহের প্রচলন করে। আকাশের সাতটি গ্রহ, নক্ষত্র ও উপগ্রহের নামে সাতটি নাম রাখা হয়। তাদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের থেকে দূরের গ্রহগুলো হলো—চন্দ্র, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি। ব্যাবিলনীয়দের এই আবিষ্কারের বহু পরেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই সাতটিকেই গ্রহ হিসেবে ধরে নিয়ে চালিয়ে গিয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হাজির করেছিল নানা জটিল তত্ত্ব। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এইসব ধ্যান-ধারণার সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে আধুনিক সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব তৈরি হয়।

সেই সময় যাঁরা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন, তাঁদের অনেকে গ্রহ (প্রাচীন ধারণা অনুসারে) অবস্থানের সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনাবলীর যোগসূত্র খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হলেন। কোনও রাজার রাজ্য জয়, যুদ্ধে পরাজয়, রাজপুত্র-রাজকন্যার জন্ম, রাজার বিয়ে, সিংহাসন লাভ, রাজপুত্র-রাজকন্যাদের বিয়ে, রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠদের অসুখ-বিসুখ, মৃত্যু, পণ্ডিতদের রাজকৃপা লাভ, বন্যা খরা, মহামারি, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনা ঘটার সময় গ্রহগুলোর অবস্থান নির্ণয় করলেন। তাঁরা অনুমান করলেন, ওইসব বিশেষ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সেই সময়কার গ্রহ অবস্থানগুলোর একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের এই অনুমান বা বিশ্বাসের ওপরই গড়ে উঠতে লাগল জ্যোতিষশাস্ত্র।

 জ্যোতিষীদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম যে রাজকুল এগিয়ে এলেন, তাঁরা ব্যাবলনীয়। রাজা ও রাজপরিবারের বিষয়ে আগাম খবর দিতে রাখা হলো জ্যোতিষী। তা সত্ত্বেও ব্যাপক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষচর্চা নিয়ে গবেষণা শুরু হয় গ্রিসেই প্রথম। এই সময় অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী কৌতূহল বশে গবেষণা করে দেখতে চেয়েছিলেন, বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে গ্রহ অবস্থানের কোনও সম্পর্ক আছে কি না। তাঁদের অনেকেই গবেষণার স্বার্থে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনার সময় গ্রহ অবস্থানগুলো লিখে গেছেন। তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন, পরবর্তিকালে এই ধরনের কোনও গ্রহ অবস্থানে একই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে কি না।

 এটা হলো জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মিলেমিশে চলার ইতিহাসের শুরু। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে ‘জ্যোতিষীর কফিনে শেষ পেরেক’ গ্রন্থে।