জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস
গ্রিসের পিথাগোরাস (খ্রিস্টপূর্ব ৫৭২-৪৯৭) ছিলেন একাধারে জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও গণিতজ্ঞ। তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছিলেন, পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলোর আকৃতি গোলকের মতো।
ফিলোলাউস ছিলেন পিথাগোরাসের শিষ্য। তিনই প্রথম বললেন, পৃথিবী শুধু গোলক নয় এর একটা গতি আছে। তিনি অবশ্য ধরতে পারেননি, পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্লেটো এলেন (খ্রিস্টপূর্ব ৪২৮-৩৪৮)। প্লেটোর ধারণায় পৃথিবী একটি নিটোল গোলক। পৃথিবীর গতিপথও নিখুঁত বৃত্তাকার। বিশ্বসৃষ্টি ত্রুটিহীন। কারণ, স্রষ্টা স্বয়ং সর্বশক্তিমান।
প্লেটোর তত্ত্বকেই আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করলেন অ্যারিস্টটল, (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২)। অ্যারিস্টটলের বিশ্বতত্ত্বে বিশ্বের কেন্দ্রে রয়েছে পৃথিবী। পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে নয়টি এককেন্দ্রিক স্বচ্ছ গোলক। এই নয় গোলক হলো চন্দ্র, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি এবং শনির বাইরে আরও দুটি স্থির গোলক আছে, সেগুলো নক্ষত্র। এর বাইরের একটি গোলকে বসে আছেন বিশ্ব-নিয়ন্তা ঈশ্বর।
এলেন অ্যারিস্টার্কাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১০-২৩০) তিনি ছিলেন প্রাচীনকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। তাঁকে বলা হয় গ্রিকযুগের কোপারনিকাস। তিনি সূর্যঘড়ি ও কিছু যন্ত্রপাতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর লেখা একটি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়, গ্রন্থটির নাম “On the size and distance of the Sun and Moon" বাংলায় বলা চলে “সূর্য ও চন্দ্রের আকার ও দূরত্ব বিষয়ে”। তিনি দেখালেন সূর্যের আয়তন পৃথিবীর চেয়ে অনেক বড়।
অ্যারিস্টার্কাস আরও একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেই গ্রন্থটির সন্ধান আমরা না পেলেও গ্রন্থটির উল্লেখ পাই আর্কিমিডিসের লেখায়। আর্কিমিডিস জানিয়েছিলেন গ্রন্থটিতে অ্যারিস্টার্কার্স জানিয়েছলেন সূর্যকে ঘিরেই পৃথিবীও অন্যান্য গ্রহগুলো ঘুরে চলেছে। সতের শতক পরে এই সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্বকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কোপারনিকাস।
আরিস্টার্কাস ও কোপারনিকাসের মাঝের সতেরো শো বছর প্রতিষ্ঠিত ছিল ভূকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব। কারণ প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রভাব এতই সর্বগ্রাসী ছিল যে তাঁদের সূত্র ছাড়া মহাকাশ গবেষণার কথা তৎকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল অকল্পনীয়।
খ্রিস্টাব্দ দ্বিতীয় শতকে এলেন ক্লডিয়াস টলেমি। ভূগোল, গণিত, পদার্থবিদ্যায় ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর ছিল অগাধ পণ্ডিত্ব। জ্যোতির্বিদ্যার উপর তিনি একটা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, নাম—Almegest “অ্যালমাজেস্ট”। টলেমির সময় থেকে কোপারনিকাসের সময় পর্যন্ত দীর্ঘ বারো শো বছর জ্যোতির্বিদদের কাছে গ্রন্থটি ছিল