বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

অধ্যায় : ছয়


জ্যোতিষশাস্ত্রের বিচার পদ্ধতি

জ্যোতিষে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁদের অনেকেই জ্যোতিষীদের ভবিষ্যৎবাণী মিলে যাওয়ার গায়ে কাঁটা দেওয়া গল্প শোনান। বাস্তবিকই তাঁদের অনেক অভিজ্ঞতাতেই যেমন কল্পনার রঙ মেশানো থাকে, আবার কিছু কিছু অভিজ্ঞতায় থাকে বাস্তবের ছোঁয়া। কেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেলে, মেলার সঙ্গে বাস্তবিকই জ্যোতিষশাস্ত্রের সম্পর্ক আছে কি না, জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্য ছাড়াই কীভাবে মেলানো যায় এবং জ্যোতিষীদের এই মিলিয়ে দেবার পেছনে ফাঁক আর ফাঁকিই বা কোথায়, সেই প্রসঙ্গে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে নিশ্চয়ই আসব। আসব জ্যোতিষীরা এই শাস্ত্রের পক্ষে কী কী যুক্তির অবতারণা করেন; যুক্তিগুলো কতখানি গ্রহণযোগ্য জ্যোতিষশাস্ত্রের বুজরুকির বিরুদ্ধে যুক্তিগুলো কী কী, এইসব প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনায় আসব আমরা। কিন্তু যে শাস্ত্রটিকে নিয়ে এই বিতর্ক, সেই শাস্ত্র সম্বন্ধে মোটামুটি একটা ধারণা রাখা সবার আগে একান্তই প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনাটা গোড়াতেই সেরে নিই আসুন।

 জ্যোতিষীরা জাতকের জন্ম সময় জানার পর সেই সময়ে গ্রহ-নক্ষত্রগুলো কোথায় অবস্থান করছিল বের করেন। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান জানার জন্য তাঁরা বিভিন্ন পত্রিকা বা এফিমেরিসের সাহায্য নিয়ে থাকেন। তারপর এই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের একটি চিত্র বা ছক তৈরি করা হয়। এই জন্মছক বা রাশিচক্রের ওপর নির্ভর করে জ্যোতিষীরা জাতকের ভবিষ্যৎ গণনা করে থাকেন। এ-ছাড়া আরও এক শ্রেণির জ্যোতিষী আছেন যাঁরা জাতকের হাতের রেখা দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেন। এই দুই ধরনের ভাগ্য গণনা-পদ্ধতি বেশি জনপ্রিয়। এর বাইরে কেউ কেউ আবার কপাল দেখে, কান দেখে, এমন কি পায়ের রেখা দেখেও ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন। তবে এই শ্রেণির ভবিষ্যৎ বক্তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য। আমরা জ্যোতিষশাস্ত্রের জনপ্রিয় দুই পদ্ধতি, রাশিচক্র ও হস্তরেখা নিয়ে আলোচনা করব। প্রথমে আসা যাক রাশিচক্রে।

 প্রতিটি জন্ম-পত্রিকার, ঠিকুজীর বা কোষ্ঠীর শীর্ষে আঁকা থাকে একটি ছক বা রাশিচক্র। রাশিচক্রে রয়েছে বারোটি ঘর। কাল্পনিক রেখায় ভাগ করে বারোটি

১১৪