বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২০

রাশি নির্ণয়ের ভারতীয় পদ্ধতি

 ভারতীয় জ্যোতিষীদের মতে রাশি ও চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রত্যক্ষ ও নিবিড়। কোনও জাতকের জন্মরাশি নির্ণীত হয় জন্মকালীন চন্দ্রের অবস্থানের উপর। জাতকের জন্মকালীন চন্দ্র যে নক্ষত্রযুক্ত ছিল, জাতকের জন্ম-নক্ষত্রই হবে।

জাতকের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে প্রধানত যে গ্রহগুলি

 জাতকের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নক্ষত্রের চেয়ে গ্রহগুলির ভূমিকা প্রবল বলে জ্যোতিষীরা কল্পনা করেন। জন্মকালীন গ্রহ-অবস্থানের উপর জাতকের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় বলে জ্যোতিষীরা কল্পনা করেন।

 জ্যোতিষীদের মতে ৯টি গ্রহ আমাদের ভাগ্যকে নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। গ্রহগুলো হল (১) বুধ, (২) শুক্র, (৩) মঙ্গল, (৪) বৃহস্পতি, (৫) শনি, (৬) রবি, (৭) চন্দ্র, (৮) রাহু, (৯) কেতু।

গ্রহ-অবস্থান ও জ্যোতিষ-বিচার, স্বক্ষেত্র, ত্রিকোণ, তুঙ্গস্থান, নীচস্থ স্বক্ষেত্র

 জ্যোতিষীদের কল্পনায় জাতকের গ্রহ স্বক্ষেত্রে থাকলে গ্রহটি জাতকের ভাগ্যের ক্ষেত্রে ভাল বলে বিবেচিত হয়। গ্রহ মূল-ত্রিকোণে থাকলে অধিকতর ভাল ফল দেয় এবং তুঙ্গস্থানে সবচেয়ে ভাল ফল দিয়ে থাকে। গ্রহ নীচস্থ থাকলে খারাপ ফল দেয়।

 জ্যোতিষীরা স্বক্ষেত্র বা নিজেদের ক্ষেত্র অথবা গৃহ বা ঘর কল্পনা করেছেন বিভিন্ন গ্রহের। কোন্ গ্রহের স্বক্ষেত্র কোনটি নীচের ছবিটি দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।

 এখানে আমরা দেখছি যে, প্রতিটি গ্রহের দুটো করে ঘর স্বক্ষেত্র। শুধু চন্দ্র ও রবির স্বক্ষেত্র একটি করে ঘর।

 জ্যোতিষীরা কল্পনা করেন গ্রহগুলো তাদের স্বক্ষেত্রের অধিপতি। অর্থাৎ মেষ ও বৃশ্চিকরাশির অধিপতি মঙ্গল।