জাতকের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি বেশি থাকে। শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, সাহিত্যিক, অভিনেতাদের হাতে মিলবে এই জাতীয় শিরোরেখা।
রেখাটি খুব বেশি ঢালু হলে তা অবশ্যই রোম্যাণ্টিসিজম এবং আদর্শবাদের চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় জাতকের মনে আত্মহত্যার ইচ্ছে জেগে ওঠে।
ঢালু শিরোরেখা চন্দ্রস্থানে দুটি ভাগ হয়ে গেলে সাহিত্যপ্রতিভা বোঝায়।
শিরোরেখা যদি আয়ুরেখার সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় শুরু হয় তা জাতকের স্পর্শকাতরতা, সতর্ক-মনোবৃত্তি এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব নির্দেশ করে।
শিরোরেখা আয়ুরেখা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলে এবং রেখাটি করতলের অনেকদূর পর্যন্ত থাকলে জাতক হয় স্বাধীন ও চিন্তাশীল মানসিকতার। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন কাজে এগিয়ে আসে। জনগণকে নিজের মত সহজ-সরলভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়।
শিরোরেখাটি খুব ছোট হয়ে তালুর মাঝখানে শেষ হয়ে গেলে জাতক অত্যন্ত বাস্তববাদী-মানসিকতার পরিচয় দেয়।
রেখাটি সংক্ষিপ্ত ও খুব দৃঢ় হলে জাতকের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে হৃদয় শাসন করে।
শিরোরেখার উপর বিভিন্ন চিহ্ন
শিরোরেখায় যব চিহ্ন মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ও মস্তিষ্কের অসুখ বোঝায়। কী কারণে মানসিক বৈকল্য দেখা দেবে তা নির্ভর করে কোন জায়গায় যব চিহ্ন আছে তার ওপর।
বৃহস্পতির ক্ষেত্রের নিচে শিরোরেখায় যব চিহ্ন থাকলে জাতক অতি উচ্চাকাঙ্খার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, অথবা মানসিক রোগের শিকার হয়।
শনির ক্ষেত্রের নিচে শিরোরেখায় যব চিহ্ন থাকলে জাতক অতিমাত্রায় আত্মানুসন্ধান চালাতে গিয়ে নিরাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, অথবা মানসিক রোগের শিকার হয়।
রবির ক্ষেত্রের নিচে শিরোরেখায় যব চিহ্ন থাকলে খ্যাতি ও সাফল্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে জাতক এক সময় অতিশ্রমে অথবা নিরাশায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বুধের ক্ষেত্রের নিচে শিরোরেখায় যব চিহ্ন থাকলে জাতক ব্যবসা বা বিজ্ঞানসাধনার চিন্তায় অতি পীড়িত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
পুরো শিরোরেখাটা শিকলের মতো দেখতে হলে জাতক অতি দুর্বল-মস্তিষ্কের হয়। কোনও মানসিক আঘাত, কোনও গভীর চিন্তা, কোনও দুশ্চিন্তা বা কোনও গুরুদায়িত্ব অর্পিত হলে এরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, অথবা মস্তিষ্কের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।