বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬২
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

অথবা অবাস্তব। তাঁরা বিশ্বাস করেন শাস্ত্র-বাক্যকে, ধর্মগুরুদের অন্ধ-বিশ্বাসকে—যার উপর দাঁড়িয়ে আছে তথাকথিত ধর্ম ও ধর্মের নানা আচার অনুষ্ঠান।

 যুক্তির কাছে অন্ধ-বিশ্বাস বা ব্যক্তি-বিশ্বাসের কোনও দাম নেই। যুক্তি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জ্ঞানের পথ ধরে। যুক্তিবাদীদের কাছে তথাকথিত ধর্মই যখন অন্ধ-বিশ্বাস হিসেবে বাতিল তালিকাভুক্ত, তখন ধর্মবিশ্বাস জ্যোতিষ শাস্ত্রকে গ্রহণ করল অথবা করল না, তাতে যুক্তিবাদীদের কী এল গেল?


 যুক্তি দুই: জ্যোতিষীরা অনেক সময় জ্যোতিষবিচারে ভুল করেন। কিন্তু জ্যোতিষীদের ভুলের দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, জ্যোতিষশাস্ত্র ভুল। যেমন, চিকিৎসকরা ভুল করলে প্রমাণ হয় না চিকিৎসাশাস্ত্র ভুল।


 বিপক্ষে যুক্তি: চিকিৎসাবিজ্ঞান একটি প্রমাণিত বিজ্ঞান। অর্থাৎ বিজ্ঞান চিকিৎসাবিজ্ঞানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিজ্ঞানের দরবারে বিজ্ঞানের নিয়ম (Methodology) অনুসরণ করে প্রমাণ করেছে তার যাথার্থতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যগুলো একই শর্তাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পরীক্ষক বিজ্ঞানীদের দ্বারা সমর্থিত হয়েছে। আরও একটু সরল করে বলতে পারি, কোন্ কোন্ ভাইরাস বা ব্যাসিলির জন্য কী কী রোগ হয়, তা অনুবীক্ষণ বা অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন গবেষণাগারে পরীক্ষা করার পর কারও আবিষ্কার বা মতামতকে পরীক্ষক বিজ্ঞানীরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। আবিষ্কৃত ওষুধের ক্ষেত্রেও টেস্টটিউব, ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা হয় বিশেষ ওষুধে জীবাণু ধ্বংস হচ্ছে কিনা টেস্টটিউব জীবজন্তু ও মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় জীবাণু প্রবেশ করিয়ে তারপর ওষুধ প্রয়োগ করে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল দেখা যায়। কেবলমাত্র এইসব পরীক্ষার সাফল্য লাভ করলে আসে স্বীকৃতি। তাই একজন চিকিৎসকের ভুলের জন্য বা একজনের মৃত্যুতে চিকিৎসাশাস্ত্রের অসারতা প্রমাণিত হয় না।


 যুক্তি তিন: বিজ্ঞান কি প্রমাণ করতে পারবে- জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান নয়?


 বিরুদ্ধ যুক্তি: দাবির যথার্থতা প্রমাণের দায়িত্ব সব সময়েই দাবিদারের। জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব জ্যোতিষীদের। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ না করে পারলাম না। ২৩শে জানুয়ারি ১৯৯০ কৃষ্ণনগর টাউন হলের মাঠে ‘বিবর্তন’ পত্রিকা গোষ্ঠীর আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম ‘জ্যোতিষ বনাম বিজ্ঞান’ শিরোনামের এক আলোচনা সভায়। সেই সভায় এক জ্যোতিষী আমাকে বলেছিলেন, “আপনি প্রমাণ করতে পারবেন – জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান নয়?”

 জ্যোতিষীটির এই চ্যালেঞ্জ শ্রোতাদের যে যথেষ্টই নাড়া দিয়েছিল, সেটুকু বুঝতে