কোনই অসুবিধে হয়নি আমার। উত্তরে আমি বলেছিলাম, “জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান, কি বিজ্ঞান নয়, এই প্রসঙ্গটা মুলতুবি রেখে অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটিয়ে দেখাব। না, ঘটনাটা অলৌকিক বলছি না, তবে এর কার্য-কারণ সম্পর্কটি এখনও আমার অজানা। আপনার আমার জীবনে কখনও হয়তো এমন ঘটনা ঘটল, যার ব্যাখ্যা, কার্য-কারণ সম্পর্ক আপনার-আমার অজানা। এই সময় যদি আমি ভেবে বসি, এর ব্যাখ্যা শুধু আমাদের পক্ষেই নয়, কারও পক্ষেই দেওয়া অসম্ভব, তখন ঘটনাটিকে লৌকিক-কারণবর্জিত অর্থাৎ অলৌকিক বলে বিশ্বাস করে ফেলি। যুক্তিবাদীরা অবশ মনে করেন, প্রতিটি ঘটনার পিছনেই রয়েছে যুক্তিগ্রাহ্য কারণ। কারণটি তাঁর কাছে অজানা হলেও কারও হয় তো জানা। কারণটি বর্তমানে কারো জানা না থাকার অর্থ এই নয় যে, কারণ ছাড়াই ঘটনাটি ঘটেছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনেক অজানা রহস্যের ঘেরাটোপ প্রতিটি দিনই দূরে সরে যাচ্ছে। আজ যে কারণটি অজানা, ভবিষ্যতে সে কারণটিও এক সময় হয়তো জানা হয়ে যাবে। আর না জানা গেলে বড় জোর এ-কথাই প্রমাণিত হবে কারণটি এখনও আমাদের অজানা, কিন্তু কারণ নেই—এমনটা হয় না। এখন যে ঘটনা আপনাদের সামনে ঘটিয়ে দেখাব, তার কারণটি আমার অজানা। হয়তো আপনাদের কারো জানাও থাকতে পারে। জানা থাকলে অনুগ্রহ করে কারণটি জানাবেন।
“আমি দেখেছি তিন বার জোড়া পায়ে লাফালে অনেক সময় আমার উচ্চতা ঠিক তিন ইঞ্চি বেড়ে যায়।”
আমি সেই জ্যোতিষীটিকেই মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলাম, যিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন।
মঞ্চের পাশে একটি স্তম্ভ। স্তম্ভের সামনে দাঁড়ালাম। আমার অনুরোধে জ্যোতিষী আমার উচ্চতা চিহ্নিত করে স্তম্ভে দাগ দিলেন। জনতা অধীর আগ্রহ আর উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। আমি জোড়া পায়ে তিনবার লাফালাম। জ্যোতিষীকে বললাম, “এ-বার মাপলেই দেখতে পাবেন তিন ইঞ্চি বেড়ে গেছি।”
কিছু দর্শকের কথা কানে আসছিল—“ওই তো বেড়েছেন, এখানে থেকেই বোঝা যাচ্ছে” ইত্যাদি ইত্যাদি।
জ্যোতিষীটি আমার উচ্চতা মাপলেন। মাপতে গিয়ে বোধহয় কিছু গণ্ডগোলে পড়লেন। আবার মাপলেন। তারপর অবাক গলায় বললেন, “আপনার উচ্চতা তো একটুও বাড়েনি?”
আমিও কম অবাক হলাম না। “সে কী? আমি বাড়িনি? ঠিক মেপেছেন তো?”
“হ্যাঁ, ঠিকই মেপেছি। যে কেউ এসে দেখতে পারেন।”
“না না, আপনাকে অবিশ্বাস করছি না। যাই হোক, আজ আমি আপনাদের অবাক করতে পারলাম না। যে কোনও কারণে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি মানে এই নয় যে আমি পারি না। আমি পারি। কেন আমি তিন লাফে তিন ইঞ্চি