লম্বা হই, এটা আজও আমার কাছে রহস্য। এই রহস্যের কারণ আপনারা কেউ বলতে পারবেন?”
আমার কথায় দর্শকদের মধ্যে গুঞ্জন শোনা গেল। অনেকেই বোধহয় আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেননি। প্রথম জোরালো প্রতিবাদ জানলেন জ্যোতিষীটিই, “আপনি যে বাড়েন, সে কথাই প্রমাণ করতে পারলেন না, সুতরাং বাড়ার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে?”
বললাম, “ভাই, আজ তিন লাফে তিন ইঞ্চি লম্বা হতে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি সত্যিই এমনটা ঘটাতে পারি। অনেক বার ঘটিয়েছি। এখন নিশ্চয়ই আপনারা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেন।”
“স্যরি, আমি অন্তত আপনার কথায় বিশ্বাস করতে পারছি না। এবং আশা করি কোনও যুক্তিবাদী মানুষই আপনার দাবিকে শুধুমাত্র আপনার মুখের কথার উপর নির্ভর করে মেনে নেবেন না।” জ্যোতিষীটি বললেন।
এবার আমার রাগ হওয়ারই কথা। একটু চড়া গলাতেই বলে ফেললাম, “অর্থাৎ আপনি আমাকে অবিশ্বাস করছেন। কিন্তু আমার এই ব্যর্থতার দ্বারা আদৌ প্রমাণ হয় না যে আমি মিথ্যেবাদী। আপনি প্রমাণ করতে পারবেন—আমি কোনও দিনই তিন লাফে তিন ইঞ্চি লম্বা হইনি?”
জ্যোতিষীটি এবার আর নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। চড়া গলায় বললেন, “আমার প্রমাণ করার কথা আসছে কোথা থেকে? আপনি ভালভাবেই জানেন, এমনটা প্রমাণ করা আমার কেন, কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। দাবি করেছেন আপনি। সুতরাং দাবির যথার্থতা প্রমাণের দায়িত্ব আপনারই।”
হেসে ফেললাম, বললাম, “সত্যিই সুন্দর যুক্তি দিয়েছেন। এই যুক্তিটা আপনার মুখ থেকে বের করতেই লাফিয়ে লম্বা হওয়া গল্পটি ফেঁদেছিলাম।”
উপস্থিত শ্রোতারা তুমুল হাসি আর হাততালিতে বুঝিয়ে দিলেন, আমার যুক্তি তাঁদের খুবই মনের মতো ও উপভোগ্য হয়েছে।
না। জ্যোতিষীটি এর পর আর কোনও বিরুদ্ধ যুক্তি হাজির করতে চেষ্টা না করে ফিরে গিয়েছিলেন দর্শকদের মাঝে।
যুক্তি চার: জাতকের ভবিষ্যৎ বিচারে অনেক সময় জ্যোতিষীদের ভুল হয় বই কী। কারণ পুরুষকার দ্বারা নিজের ভাগ্যকে পাল্টে দিতে পরে মানুষ। প্রাচীন ঋষিরাও ভাগ্য পরিবর্তনে পুরুষকারের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন, “যেমন একটি চাকার সাহায্যে রথের গতি ক্রিয়াশীল হয় না, দুটি চাকাই অপরিহার্য তেমনি পুরুষকার ছাড়া কেবলমাত্র ভাগ্য সহায়ে সব সময় সিদ্ধিলাভ হয় না।”