বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
১৬৭

ভেদে সূর্যের প্রভাবও ভিন্নতর। রাজস্থান বা সাহারায় দুপুরের সূর্য মানুষের শক্তিকে যেমন নিঃস্ব করে, তেমনই শীতপ্রধান দেশগুলোতে সূর্যের উত্তাপই আনে বসন্তের আনন্দ।

 সূর্যের পরেই যে গ্রহটি মানবজীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে, সেটি হল চন্দ্র। চন্দ্রের প্রভাবে জোয়ার ভাটা হয়, অমাবস্যা, পূর্ণিমায় বাতের ব্যথা বৃদ্ধি পায়, এই পরম সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রতি চন্দ্রমাসে অর্থাৎ ২৮ দিনে নারীদেহে ঋতুকালের আবর্তন হয়। চান্দ্রমাসের সঙ্গে নারীদেহের এই ঋতু পরিবর্তন কী চন্দ্রের প্রভাবেরই ফল নয়?

 এইসব বক্তব্য থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায় মানবজীবনের উপর গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্রই মানবজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সূত্রগুলো সন্দেহাতীতাভাবে যুক্তিপূর্ণ এবং বিজ্ঞানসম্মত।


 বিরুদ্ধ যুক্তি: সূর্যের প্রভাব নিশ্চয়ই মানুষের জীবনে আছে। সূর্যের উপস্থিতিতে দিন, অনুপস্থিতিতে রাত হয়। সূর্যের প্রখরতায় খরা, দুর্ভিক্ষ, অনেক কিছুই হতে পারে; আবার সূর্যের উপস্থিতি আনতে পারে বসন্তের আনন্দ। চন্দ্র থেকে নিশ্চয়ই জোয়ার-ভাটা হতে পারে পূর্ণিমার চাঁদ অনেক কবিরই কাব্যরসের উৎস। জ্যোৎস্না অনেক সময়ই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে মোহময় করে তোলে।

সূর্য-চন্দ্রের প্রভাব নিশ্চয়ই বিজ্ঞান স্বীকার করে। কিন্তু সেই প্রভাবে
আপনার স্ত্রী মোটা হবে কী রোগা, কালো হবে কী ফরসা,
অথবা আপনার স্বামী পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি হবে কী সাড়ে
আট ইঞ্চি, এবার পরীক্ষায় পাশ করব কি না, এমনি
সব বিষয় নির্ধারিত হয়, ভাবার মত কোনও
যুক্তি বা প্রমাণ কিন্তু জ্যোতিষীরা
হাজির করতে পারেননি।

 নানা গ্রহ-নক্ষত্রের আকর্ষণ-বিকর্ষণ বিজ্ঞান স্বীকার করে, এর দ্বারা কখনই প্রমাণিত হয় না, আমার আজ দাড়ি কামাতে গিয়ে ছড়ে যাওয়ার পিছনে স্বাতী নক্ষত্রের হাত ছিল। গ্রহ-নক্ষত্রের আকর্ষণ-বিকর্ষণ বা কিছু কিছু গ্রহের মানবজীবনে প্রভাব স্বীকার করেও বলা যায়, এর দ্বারা কখনই প্রমাণ হয় না, মানুষের ভাগ্যকে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রহ-নক্ষত্র।

 মানবজীবনে প্রভাব সৃষ্টি করাই যদি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করার অকাট্য প্রমাণ হয়, তবে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, গ্রহ-নক্ষত্র ছাড়া অনেক কিছুই আমাদের ভাগ্যকে পূর্বনির্ধারিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে লোডশেডিং, খরা, বন্যা, বায়ু, আগুন, জল, চাল, ডাল,