যুক্তি ছয়: “২৮ দিনে চান্দ্রমাস এবং ২৮ দিনে নারীদেহের ঋতুকাল আবর্তিত হয়। অতএব নারীদেহের এই ঋতুকাল চন্দ্রের প্রভাবেরই ফল।”
বিরুদ্ধ যুক্তি ছয়: যে সব জ্যোতিষী এই দাবি করেন, তাঁদের অদ্ভুত যুক্তিকে মেনে নিলে আরও এমন অনেক আকাট যুক্তিকেই মেনে নিতে হয়; যেমন—“সূর্য এক, মানুষের মাথাও এক, অতএব সূর্যের প্রভাবে মানুষের একটি মাত্র মাথা।”
ভাগ্যগণনার ক্ষেত্রে দুটি প্রধান গ্রহ রবি ও চন্দ্র; নারীদেহের প্রধান আকর্ষণক্ষেত্র দুটি বুক। অতএব নারীবক্ষ চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেরই ফল। মানুষের প্রধান অঙ্গ চারটি মাথা, হাত, পা ও উদর। বেদও চারটি। মানুষের চারটি প্রধান অঙ্গ কী তবে চার বেদের প্রভাবেরই ফল নয়?
এর বাইরে আরও একটি বিরুদ্ধযুক্তি রয়েছে। একটা বিশেষ বয়সের আগে ও বিশেষ বয়সের পরে নারীদেহে ঋতুকাল দেখা যায় না। এটা শরীরেরই ধর্ম। শরীরের এই ধর্মকে অস্বীকার করে যে স্ব-ঘোষিত জ্যোতিষসম্রাটরা চাঁদের সঙ্গে নারীর ঋতুকালের যোগসূত্র খুঁজতে চেয়েছিলেন, তাঁরা কি জবাব দেবে কেন চন্দ্রের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু নারী ঋতুমতী হয় না?
চন্দ্রের প্রভাবে জোয়ার-ভাটা হয়, অমাবস্যা-পূর্ণিমায় বাতের ব্যথা বাড়ে অতএব চাঁদই ঠিক করবে আমি আজ অফিসে লেট হবো কি না, আগামিকাল রমেনের সঙ্গে ব্যাডমিণ্টন খেলায় জিতব কি না, আজ সিনেমার টিকিট পাব? নাকি ব্ল্যাকে কিনতে হবে? এমনটা মেনে নিতে যুক্তির দিক থেকে যথেষ্ট অসুবিধে আছে। আর এ-কথা মানতেই বা অসুবিধে কোথায়—গ্রহ-নক্ষত্রই যেহেতু মানুষের ভাগ্যের পুরোপুরি নিয়ন্তা, অতএব ঈশ্বর নামক বস্তুটি কোনওভাবেই মানুষের জীবনকে সামান্যতম প্রভাবিত করে না। আবার ঈশ্বর নামক কেউ মানুষের জীবনকে সামান্যতম প্রভাবিত করলেই কিন্তু ‘পূর্ব থেকে নির্ধারিত’ জীবনের ঘটনা ভারসাম্য হারাবে। অর্থাৎ
জ্যোতিষবিশ্বাসই ঈশ্বর-বিশ্বাসের চূড়ান্ত বিরোধী, এবং ঈশ্বর
বিশ্বাসও একইভাবে পুরোপুরি জ্যোতিষবিরোধী। মজাটা
হলো এই—ঈশ্বর-বিশ্বাস এবং জ্যোতিষবিশ্বাস
স্পষ্টতই পরস্পরবিরোধী হওয়া সত্যেও
প্রায় প্রতিটি জ্যোতিষই ঘোর বিশ্বাসী
বলে নিজেদের পরিচয়
দিয়ে থাকে।
আসলে এইসব জ্যোতিষ-ব্যবসায়ীরা জ্যোতিষশাস্ত্র ও ঈশ্বর—দুটিরই অস্তিত্বে সামান্যতম বিশ্বাস রাখে না। জ্যোতিষশাস্ত্র বা ঈশ্বরের বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার চেয়ে মানুষদের বিশ্বস্ততা অর্জন ব্যবসার খাতির অনেকে বেশি প্রয়োজনীয়