বিবেচনায় ‘যখন যেমন, তখন তেমন’ অভিনয় করে।
যুক্তি সাত: জ্যোতিষীর ব্যর্থতার একটি প্রধান কারণ জাতকের জন্ম সময়ের ভ্রান্তি। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রধান অবলম্বন জন্ম-সময়। বেশির ভাগ ঘড়িই ঠিক সময় দেয় না। দিলেও ঠিক জন্ম মুহূর্তেই ঘড়ির সঠিক সময় দেখা অনেক সময় সম্ভব হয় না। হাসপাতালে জন্মসময় সঠিক রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জাতকের জন্ম-সময় ঠিক থাকে না। জন্ম-সময়ের ত্রুটির জন্য জন্মকালীন গ্রহ-অবস্থান নির্ণয়ের ভুল হয়। ভুলের উপর নির্ভর করে জ্যোতিষবিচার করলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভুলের দায়িত্ব জাতকের জন্ম-সময় রক্ষাকারীর, জ্যোতিষীর নয়।
বিরুদ্ধ যুক্তি: যাঁরা জ্যোতিষ-ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন, তাঁরা জাতকদের দেওয়া জন্ম-সময় দেখেই তো গণনা করেন এবং সেই গণনার উপর ভিত্তি করে নানা সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে দামি দামি গ্রহরত্ন কেনান। এই সময় তো তাঁরা ভুলে থাকতে ভালবাসেন যে, শতকরা প্রায় একশোভাগ জাতকের ক্ষেত্রেই সঠিক জন্ম-সময় লিপিবদ্ধ করা হয়নি। জ্যোতিষীরা তখন তো জাতকদের জন্ম-সময় ভ্রান্তির প্রসঙ্গ তুলে ক্লায়েণ্টদের ফিরিয়ে দেন না? বলেন না, আপনাদের জন্ম-সময় যেহেতু সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য, তাই আমাদের এ বিষয়ে সঠিক গণনা করার সম্ভাবনাও শূন্য।
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে বাস্তবিকই জন্ম সময় কতটা নিখুঁত হওয়া প্রয়োজন? একটু দেখা যাক। ফলিতজ্যোতিষ নিয়ে পড়াশুনা করেছি। পড়ে বাস্তবক্ষেত্রে পরীক্ষা করে স্পষ্টতই বুঝেছি, ফলিতজ্যোতিষ নেহাতই একটা চান্সের ব্যাপার। অর্থাৎ মিলতেও পারে, নাও মিলতে পারে। আবার জ্যোতিষশাস্ত্র মতে গণনা না করে, জাতকদের বাহ্যিকভাবে দেখে, তার আচার-আচরণ বিচার করে, কথাবার্তার ধরন দেখে তাদের সম্বন্ধে অনেক কিছু ঠিক-ঠাক বলে দিয়ে বহু জাতককেই বিস্মিত করে দিয়েছি। একজনের জামা, কাপড়, জুতো, ঘড়ি, চেহারা চোখ, কথাবার্তা অনেক সময়ই তার আর্থিক অবস্থা, রুচি, শিক্ষাদীক্ষা, কোন্ পরিবেশে মানুষ, কোন্ বিষয়ে উৎসাহী ইত্যাদির হদিশ দেয়। চোখ-মুখের চেহারা, শরীরের গঠন, শ্বাস নেবার শব্দ, বসার অস্বস্তি ইত্যাদি দেখে ব্লাড সুগারের রোগী, কোলেস্টেরলের রোগী, হৃদরোগী, পেটের গোলমালের রোগী, হাঁপানি রোগী বা অর্শরোগীকে অনেক সময়ই চিহ্নিত করা যায়। জাতক কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন জানা থাকলে অনেক সময় বলা সম্ভব, “আপনি নিজের চেষ্টায় দাঁড়িয়েছেন”, “আপনার প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে অন্যের সাহায্যের হাত” ইত্যাদি। চেহারা দেখেই অনেক সময় বলে দেওয়া যায়, “আপনার জীবনে অনেক নারী/পুরুষ আসবে।” অনেক অর্ধ-প্রতিষ্ঠিত বা প্রতিষ্ঠিত মানুষকে যদি বলেন, “আপনার যতখানি নাম-যশ, প্রতিষ্ঠা পাওয়া