বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
১৭১

উচিত ছিল তা আপনি পাননি।” দেখবেন, জাতক আপনার কথায় বেজায় খুশি হয়ে উঠবে। আপনি একটু বুঝে-সমঝে কাউকে যদি বলেন, “পরিবারের জন্য, বন্ধুবান্ধবদের জন্য আপনি প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কিন্তু বিনিময়ে অনেক সময়ই তাঁদের কাছ থেকে আন্তরিক, কৃতজ্ঞ ব্যবহার পাননি, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।” দেখবেন জাতক ভাবাবেগের শিকার হয়ে পড়েছেন, অনেক গোপন খবরই আপনার কাছে গড় গড় করে বলে চলেছেন। একজনের চেহারা দেখলে, কথা শুনলে তার মানসিকতার আঁচ করাও অনেক ক্ষেত্রেই মোটেই কঠিন ব্যাপার নয়। আপনি দু-একটি কথা বলে জাতকের আস্থা পেলেই দেখবেন, জাতক আপনাকে আপনজন মনে করে মনের জানালা খুলে দিয়েছেন। আপনার কাছ থেকে সহানুভূতি শুনে, মনের মত কথা শুনে এইসব জাতকরাই পরিচিত জনের কাছে আপনার গুণগানে পঞ্চমুখ হবেন। প্রেম বা বিয়ের ক্ষেত্রে “ধরি মাছ, না ছুঁই পানি” করলে তো পোয়াবারো। না হলেও, সফলতা বা বিফলতা, যে পক্ষেই মত দিন মোটামুটি শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ঠিক বা ভুল ঘটারই সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। ঠিক হলে নাম আরও বাড়বে। ভুল হলেও চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। জাতকের আবেগকে ঠিকমত সুড়সুড়ি দিন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি জানান, দেখবেন তিনিও আপনার ভক্ত হয়ে উঠেছেন। জাতক তখন অন্যদের কাছে আপনার প্রসঙ্গে নিয়ে কথা বলার সময় আপনার জ্যোতিষবিচারের ব্যর্থতার দিকগুলো এড়িয়ে সফলতার প্রসঙ্গ এনে আপনার জ্যোতিষবিচারের অভ্রান্ততার কথাই প্রমাণ করতে চাইবেন।


 আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় জ্যোতিষীর কাছে যাঁরা যান, তাঁদের বেশিরভাগই সমস্যাপীড়িত অথবা জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসী। তাদের এই বিশ্বাস পরিবেশগতভাবেই এসেছে। তাই জ্যোতিষীরা যখন এইসব জাতকদের বাহ্যিকভাবে দেখে আচার-আচরণ শুনে অনেক কিছু বলে যান, তখন জাতকরা মিলে যাওয়া কথাগুলোই মনে রাখেন। না মেলে কথাগুলো ভুলে যান। এইসব জাতকরা কিন্তু অবশ্যই চান। জ্যোতিষীটির প্রতি তাঁর একান্ত বিশ্বাস আপনার মধ্যেও সংক্রামিত করতে।


 আবার বলি, এইসব মিলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক বা বেঠিক জন্ম-সময় আদৌ কাজ করে না। তিনিই সফল জ্যোতিষী, যিনি মানুষের মন ভাল বোঝেন। জ্যোতিষী অমৃতলাল “জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণী কেন মেলে না” শিরোনামের প্রবন্ধে জানাচ্ছেন, ভবিষ্যদ্বাণীকে সফল করতে হলে জ্যোতিষীদের হতে হবে মনস্তাত্ত্বিক, তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। অমৃতলাল বাস্তবিকই ঠিক কথা বলেছেন। সফল জ্যোতিষী হতে এইসব গুণেরই প্রয়োজন, জাতকের সঠিক জন্ম-সময় নয়।