বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭২
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

 ধরা গেল আপনি আপনার ঠিক জন্ম-সময় জানতে পেরেছেন। তিন জ্যোতিষীকে আপনি ওই একই জন্ম-সময় দিলেন গণনার জন্য। গ্রহ-অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একজন গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা, একজন দিক্‌সিদ্ধ পঞ্জিকা এবং একজন এফিমেরিস-এর সাহায্য গ্রহণ করলেন। ফলে হয়তো দেখা গেল তিনি জ্যোতিষী জাতকের লগ্ন বসিয়েছেন সিংহ, কন্যা এবং তুলায়। এমনটা হয়েই থাকে বিভিন্ন পঞ্জিকায় ও এফিমেরিসে গ্রহসংস্থান ভিন্ন ভিন্ন থাকার দরুন। গ্রহ-অবস্থানেই যেখানে মতান্তর, সেখানে জ্যোতিষী কোন্ মতকে গ্রহণ করবেন? জ্যোতিষী যে মতটিকে গ্রহণ করবেন সেটাই যে অভ্রান্ত, এই বিষয়ে নিশ্চয় তিনি সরবে মত প্রকাশ করবেন। বাস্তব সত্য এই যে, সব রকম পদ্ধতিতে গণনা করা ভবিষ্যদ্বাণীই কিছু না কিছু মেলে। আবার জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্য না নিয়ে মনস্তত্ত্ব, তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও দূরদৃষ্টির সাহায্য নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করলেও দেখবেন কিছু কিছু মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ

এই মেলা বা না মেলার সঙ্গে জাতকের সঠিক ছক বা সঠিক
জন্ম-সময়ের কোনও সম্পর্ক নেই, প্রমাণ হিসেবে আপনি
রাশিচক্রের প্রতিটি ঘরকে এক একবার লগ্ন হিসেবে
ধরে গণনা করলেই দেখতে পাবেন, প্রতিটি
ক্ষেত্রেই কিছু কিছু ভবিষ্যদ্বাণী
মিলে যাচ্ছে।

 বহু শহর ও শহরতলিতেই হাটে-বাজারে, কোর্ট চত্বরে খাঁচাবন্দী টিয়া কী বুলবুলি নিয়ে বসে জ্যোতিষী। খাঁচার সামনে সাজানো থাকে সারি সারি খাম। জাতক পয়সা দিলে জ্যোতিষী খাঁচার দরজা খুলে দেয়। পাখিটি এসে কোনও একটি খামকে টান দেয়। জ্যোতিষী খামের ভিতর থেকে বের করেন এক টুকরো কাগজ। তাতেই লেখা থাকে ভবিষ্যদ্বাণী। জ্যোতিষী কাগজটি পড়ে শোনায় জাতককে। জাতক মাথা নেড়ে জানাতে থাকেন, অনেক কথাই মিলছে। জ্যোতিষী খামটা জায়গা মতো গুঁজে রাখার পর আবারও যদি জাতক পয়সা দিতেন, আবারও পাখিটি বেরিয়ে এসে টান লাগাত কোনও একটি খামে। সেটি অন্য কোনও খাম হলেও পড়লেই দেখা যেত জাতকের জীবনে কিছু কিছু ঘটনা এক্ষেত্রেও মিলে যাচ্ছে। আমি এই ধরনের পরীক্ষা করে তারপরই এই সিদ্ধান্তে এসেছি।

 জন্ম-সময় কোটি এই নিয়েও তো জ্যোতিষীদের মধ্যে রয়েছে নানা মত। কোনও জ্যোতিষী মাতৃগর্ভ থেকে শিশুটির পুরোপুরিভাবে বেরিয়ে আসার সময়কে জন্ম-সময় ধরেন। কোনও জ্যোতিষী জন্ম সময় হিসেবে গণ্য করেন শিশুর মস্তিষ্ক মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসার সময়কে কোনও জ্যোতিষী নাড়ি কাটার সময়কে। আবার কোনও জ্যোতিষী মনে করেন জাতক যে মুহূর্তে মাতৃজঠরে এল অর্থাৎ