বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
১৭৭

 বিরুদ্ধ যুক্তি: হোমিওপ্যাথ ওষুধে মূল ঔষধির উপস্থিতি যত সূক্ষ্ম মাত্রায় হয়, তার শক্তিমাত্রাও ততটা বৃদ্ধি পায়—এই যুক্তিতে জ্যোতিষীরা ঠিক কী প্রমাণ করতে চাইছেন, আমার কাছে আদৌ স্বচ্ছ হল না। তবে তাঁদের বক্তব্য বার বার পড়ে মনে হয়েছে তাঁরা হোমিওপ্যাথের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর মাত্রার সঙ্গে দূর গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মানুষের ভাগ্যের প্রভাবকে উদাহরণ হিসেবে যুক্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু জ্যোতিষীদের এই যুক্তিকে স্বীকার করলে জ্যোতিষশাস্ত্রকে যে অস্বীকার করতে হয়! কারণ এই যুক্তি অনুসারে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের উপগ্রহ চাঁদের এবং সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্যের প্রভাবই জীব-জগতে সবচেয়ে কম হওয়া উচিত। আর দৃশ্যমান নক্ষত্রের চেয়েও দূরবর্তী কোটি কোটি নক্ষত্রের প্রভাব হওয়া উচিত প্রবলতর।

 কিন্তু বাস্তবে এ কী দেখছি? যে সব তা-বড় জ্যোতিষীরা হোমিওপ্যাথির দৃষ্টান্ত হাজির করছেন, তাঁরাই আবার মানুষের ভাগ্য গণনার ক্ষেত্রে চন্দ্র, সূর্যের প্রভাবকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একে কী বলব? স্ববিরোধিতা, নাকি ভণ্ডামি?


 যুক্তি দশ: বিশ্বের বহু বরণ্যে বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রেই তাঁদের নবতম আবিষ্কারকে তাঁদের দেওয়া নবতম তত্ত্বকে বিজ্ঞানীরাই সবচেয়ে বেশি সন্দেহের চোখে দেখেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছে। সন্দিগ্ধ বিজ্ঞানীরা ওইসব বরেণ্যদের মতামতকে শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আজ কিছু বিজ্ঞানীদের জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি সন্দেহে আদৌ প্রমাণিত হয় না যে জ্যোতিষশাস্ত্র অপবিজ্ঞান, বিজ্ঞানীদের সন্দেহই যদি শেষ কথা হতো, তবে নিউটন থেকে শুরু করে বহু বিজ্ঞানীই চূড়ান্ত শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারতেন না।


 বিরুদ্ধ যুক্তি: বিজ্ঞান যেহেতু শৃঙ্খলাবদ্ধ জ্ঞানের সাহায্যে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়েই সিদ্ধান্তে পৌঁছোয়, তাই প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই আসে পরীক্ষার প্রশ্ন, জিজ্ঞাসার প্রশ্ন, সন্দেহের প্রশ্ন। এ-সবের পরিবর্তে ব্যক্তি-বিশ্বাসকে মর্যাদা দিতে গেলে, ব্যক্তি-বিশ্বাস বা ব্যক্তির দাবিকে বিনা প্রশ্নে মেনে নিলে বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান থাকত না। পরীক্ষিত সত্যকে বিজ্ঞান মর্যাদা দেয়। জ্যোতিষশাস্ত্র যেদিন তাদের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হবে, সেদিন নিশ্চয়ই বিজ্ঞান জ্যোতিষশাস্ত্রকেও মর্যাদা দেবে।

 কোনও দাবিকে পরীক্ষা না করেই সন্দেহাতীতভাবে মেনে নেওয়া কী সুযুক্তির লক্ষণ বলে জ্যোতিষীরা মনে করেন? আমিই যদি আজ দাবি জানাই, রাত ঠিক বারোটায় আমার হাত দুটো ডানা হয়ে যায়, আমি তখন আকাশে উড়ে বেড়াই। রাত একটায় ডানা দুটো আবার হতে যায়, তার আগেই আমি নেমে আসি মাটির পৃথিবীতে; আমার এই দাবি কি বিনা সন্দেহে বিনা প্রশ্নে, বিনা পরীক্ষায় জ্যোতিষীরা মেনে নেবেন? তেমনটা যদি কোনও জ্যোতিষী মেনে নেন, তবে তাঁর মানসিক