সুস্থতা সম্বন্ধে যুক্তিবাদীরা কিন্তু সন্দেহ প্রকাশ করবেনই।
যুক্তি এগারো: জ্যোতিষীরা অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই মিলিয়ে দিচ্ছেন। আর মিলিয়ে দিচ্ছেন বলেই জ্যোতিষশাস্ত্র সংখ্যাগুরু মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। জ্যোতিষীরা বিশ্বাস অর্জন করতে না পারলে, সাধারণ মানুষ জ্যোতিষীদের কাছে আরও বেশি বেশি করে হাজির হবেন কেন? জ্যোতিষীরা যে অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই মেলান, এবং এটা যে কোনও মিথ্যে প্রচার বা দাবি নয়, সাক্ষী হিসেবে মিলবে প্রচুর প্রত্যক্ষদর্শী বা প্রত্যক্ষভোগী।
বিরুদ্ধ যুক্তি: এর আগে আলোচনা করেছিলাম, জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বাণীর কিছু মেলে, আবার কিছু মেল না। কেন মেলে, কেন মেলে না? “সংখ্যাগুরু মানুষদের জ্যোতিষে বিশ্বাসের কারণ জ্যোতিষীদের অভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী” জ্যোতিষীদের এমন দাবিকে মেনে নেওয়ার পক্ষে কোনও যুক্তি দেখি না।
বিপ্লবকুমার বনগাঁ লাইনের ট্রেনে বই ফেরি করেন। লেখক-প্রকাশক-বিক্রেতা সবই নিজে। ম্যাজিক, জ্যোতিষী ও অলৌকিতা হল তাঁর লেখার বিষয়। ট্রেনে অননুকরণীয় ভঙ্গিতে কথা বলেন। সম্মোহিত যাত্রীদের অনেকেই বই কেনন। পাঁচ টাকা দাম, দিনে ১০০ থেকে ১৫০ বই বিক্রি হয়ে যায়। ট্রেনেই নানা ‘অলৌকিক’ ঘটনা হাতে-কলমে ঘটিয়ে বুঝিয়ে দেন অলৌকিকের পিছনের রহস্যকে। এক একজন সম্বন্ধে এমন অনেক কথা আশ্চর্য রকমের মিলিয়ে দেন যে যাত্রীরা বাক্যহারা হয়ে পড়েন।
জুলাই ২০০৭-এ সন্ধ্যা, আমাদের সমিতির দমদমের স্টাডি ক্লাশে এলেন বিপ্লবকুমার। ক্লাশে এক ঘর লোক। আমার অনুরোধে তাঁর কিঞ্চিৎ করিশমা দেখালেন। সন্তোষ শর্মাকে বললেন, “আপনার পিঠে শিরদাঁড়ার ডান দিকে একটা কালো তিল আছে।”
সন্তোষ প্যাণ্টে গোঁজা শার্ট তুলে আমাদের পিঠ দেখাল। সত্যিই একটি তিল ঠিক শিড়দাঁড়ার ডান পাশে।
শঙ্খনকে বললেন, “আপনার ডান পায়ের উরুর নীচে একটা কাটা দাগ আছে।”
এবার শঙ্খনের প্যাণ্ট গুটোনো পালা। হ্যাঁ, সত্যিই কাটা দাগ মিলল।
বিপ্লবকুমারের এমন ক্ষমতা আরও অনেক আছে। ৫৫ বছরের এক ভদ্রলোককে বললেন, “বছর পনেরো আগে আপনার সামনে একটা বড় সুযোগ এসেছিল। সেই সময় সুযোগটা নিলে আজ আপনার জীবনটাই পাল্টে যেত।”
ভদ্রলোক মাথা চুলকে বললেন, “একদম ঠিক।” তাঁর চোখে-মুখে বিস্ময়ের ছোঁয়া। অনিন্দিতাকে বললেন, “এক হাতের মুঠোয় সুখ, আর এক হাতের মুঠোয় দুঃখকে ধরুন, ধরুন, ধরুন, চটপট একটা হাতকে মুঠোবন্দির করে ভাবুন-মুঠোর ভিতর রয়েছে সুখ, আর এক হাতকে মুঠোবন্দি করে ভাবুন—মুঠোর ভিতর রয়েছে দুঃখ।”