একটি মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে আর একটি মানুষের ভাগ্য কখনই পরিপূর্ণভাবে এক নয়, তা সে একই সময়ে জন্মালেও। আর তাই দুটি মানুষের হাতের রেখা এক নয়। এই দু’য়ের সম্পর্কই প্রমাণ করে হস্তরেখার মধ্যেই সাংকেতিক চিহ্নে লিখিত রয়েছে মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ।
এই সংকেত উদ্ধার একদিনে সম্ভব হয়নি। হাজার হাজার বছর ধরে শত-সহস্র হস্তরেখাবিদদের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে হস্তরেখা-বিদ্যা। পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই সিদ্ধান্ত তাই বিজ্ঞান।
বিরুদ্ধ যুক্তি: অনেক হস্তরেখাবিদের অনেক ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গেছে, শুধুমাত্র এই যুক্তিতে জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ অনেক হস্তরেখাবিদের অনেক ভবিষ্যদ্বাণী মেলেনি, এটাও কিন্তু বাস্তব সত্য।
কেন মেলে, কেন মেলে না সে কথা আগেই আলোচনা করেছি। তাই সে আলোচনায় আবার ফিরে আসার প্রয়োজন দেখি না। বরং আমরা এখন আলোচনা করব, হাতের রেখা, ত্রিকোণাকারের রেখা, চতুষ্কোণের মত রেখা, ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে। চোখের সামনে নিজের হাতটা মেলে ধরলেই দেখতে পাব তিনটি-স্পষ্ট মোটা রেখা এবং তা ছাড়াও অনেক ছোট, বড়, সূক্ষ্ম, স্পষ্ট বহু রেখা। রেখা দিয়ে তৈরি অনেক চিহ্নও চোখে পড়তে পারে। এ-গুলো কোনও দুটি রেখার কাটা-কুটি, বহু রেখার কাটা-কুটি, বৃত্তাকারের রেখা, ত্রিকোণাকারের রেখা, চতুষ্কোণের মতো রেখা, ইত্যাদি। এ-ছাড়াও প্রতিটি আঙুলের ভাঁজের তিনটি স্থানে থাকে এক বা একাধিক স্পষ্ট মোটা রেখা। মোটা দাগের রেখাগুলোকে বলা হয় ভাঁজ crease। সূক্ষ্ম রেখাগুলোকে বলা হয় ridge।
ভাঁজ বা crease আমরা দেখতে পাব প্রতিটি আঙুলের ভাঁজের জায়গায় এবং হাতের তালুর তিনটি স্থানে। হাতের তালুর এই ভাঁজগুলোকে হস্তরেখাবিদ্রা বলেন হৃদয়রেখা (heart-line), এবং আয়ুরেখা (life-line)
হাতের ভাঁজ ও রেখাগুলো তৈরি হওয়ার কারণ শিশু গর্ভে থাকাকালীন হাত দুটি মুঠিবদ্ধ করে রাখে। ফলে হাতের তালুতে আঙুলের ভাঁজে বেশি কুঁচকে থাকা জায়গাগুলোতে তৈরি হয় ভাঁজ এবং কম কুঁচকে থাকা জায়গাগুলোতে তৈরি হয় রেখা। শিশুরা কেন এমনটা হাত মুঠোবন্দী করে রাখে? এই প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে নৃতত্ত্ববিদদের ধারণা পূর্বপুরুষদের গাছের ডাল মুঠিবদ্ধ করে ধরে রাখার অভ্যেসটাই বংশগতি সূত্রে চলে আসছে। হাত ও আঙুলের ভাঁজগুলো আমাদের হাতের নড়াচড়ায়, আঙুল চালনায় সাহায্য করে। নৃবিজ্ঞানীদের (anthropologists) মতে তালুর প্রধান তিনটি ভাঁজ আমাদের আঙুলগুলোকে চালনা করতে সাহায্য করে। আপনার বুড়ো আঙুলটি চালিয়ে দেখুন, দেখবেন আয়ুরেখাটিও চালিত হচ্ছে।