বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৯১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
১৮৫

ভাসতে পারে।” একই ভাবে মৃতকে প্রাণ-দান করার ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে বসবে—“বাসি মরাকে যদি আমি বাঁচিয়ে তুলিও, তোমরা কী করে বুঝবে ওকে বাঁচিয়েছি? তোমরা বলার কে—‘মরাটাকে বাঁচিয়ে দেখিয়ে দাও তোমার অলৌকিক ক্ষমতা।’ আমার এই ক্ষমতা যে আছে সে শুধু বুঝতে পারবে তারাই, যারা মন্ত্রে মরা বাঁচায়।” তারপর কোন্ এক বাবা এসে হেঁকে বসবে, “আমি শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে পারি গোটা একটা জাম্বো জেট্‌ প্লেন।” সেই সময় কোনও মানুষ আহম্মকের মত যদি বলে বসে, “করুন তো, করুন তো!” তখন ওই বাবা মৃদু হেসে যদি বলে বসে, “বস আমি এক্ষুনি এই মাঠটায় একটি বিশাল জাম্বো জেট্‌ তৈরি করে হাজির করলেও তোমরা কি করে বুঝবে যে আমি সতিই একটা পেল্লাই এরোপ্লেন তৈরি করেছি? এটা তোমাদের বোঝার কম্মো নয়। বুঝবে শুধু তারাই, যারা আমারই মত মন্তরে প্লেন তৈরি করতে পারে।”

 শুনে মানুষটি নিশ্চয়ই বলবে, “বাবাজি ব্যাটা হয় পাগল, নয় বুজরুক।” কিন্তু ওই বাবার ওই কথা শুনে জ্যোতিষী কী বলবে? জানার ইচ্ছে রইল।


 যুক্তি চোদ্দো: “বর্তমানে সর্বস্তরের মানুষদের মনে জ্যোতিষ যেভাবে শিকড় গেড়ে বসেছে—এই শাস্ত্র মিথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হলে, নিশ্চয়ই তা সম্ভব হত না।”

 এই কথাগুলো তুললাম প্রচারে বিশাল জ্যোতিষী অমৃতলালের দেওয়া দৈনিক পত্রিকায় পুরো পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন থেকে।

 বিরুদ্ধ যুক্তি: সংখ্যাধিক্যের ব্যক্তি-বিশ্বাসের সঙ্গে বিজ্ঞানের সত্যের সম্পর্ক কোথায়? বিজ্ঞানের দরবারে সংখ্যাধিক্যের অন্ধ-বিশ্বাসের দাম এক কানাকড়িও নয়। হাজার হাজার বছর ধরে সংখ্যাধিক মানুষ বিশ্বাস করতেন, পৃথিবীকে ঘিরেই ঘুরে চলেছে সূর্য। “বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু বিশ্বাস করেন, অতএব এই তথ্য মিথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না”—এই কুযুক্তিকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত সূর্যকে ঘিরেই পৃথিবী ঘুরছে, সংখ্যাদিক্যের যুক্তিহীন বহু বিশ্বাসই এমনিভাবেই মিথ্যে প্রতিপন্ন হয়েছে। এমন উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে বহু, তার থেকেই একটিকে তুলে দিলাম মাত্র। আর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ অবশ্যই—জ্যোতিষশাস্ত্র। অজ্ঞানতা ও যুক্তিহীনতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকা এই শাস্ত্রের শেষ স্থান ডাস্টবিনে। সাধারণের মধ্যে চেতনার উন্মেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্রে আঁধার নামতে বাধ্য। সাধারণের মধ্যে চেতনা উন্মেষের পথ চিরকালের জন্য রুদ্ধ রাখা কখনই সম্ভব নয়, কারণ মানব প্রজাতির সামগ্রিক অগ্রগতি প্রমাণ করে-চেতনার জয়যাত্রা চলেছে।