জ্যোতিষীদের এই দাবিটির যুক্তিহীনতার কিন্তু এখানেই শেষ নয়। জ্যোতিষীদের মতে—“মানুষের ওপর যাদের প্রভাব আছে তাদের গ্রহ নাম দেওয়াটা কোনও ত্রুটির পরিচয় নয়।” তার মানে জ্যোতিষ মতে দূষিত বায়ু, দূষিত জল, বন্যা, খরা, নদী, নালা, পাহাড়, সমুদ্র ইত্যাদি প্রকৃতির সব কিছুই গ্রহ—কারণ এ-সবেরই প্রভাব আছে মানুষের ওপর। এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ছাড়াও আর্থসামাজিক ও সমাজ-সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই তবে গ্রহ, যেহেতু মানুষের ওপর এদের প্রভাব বিদ্যমান। তার মানে ভাষা, সংগীত, নৃত্য, নাটক, শিল্পকলা, চোরাচালান ইত্যাদি সব কিছুই গ্রহ? বাঃ, ভারি মজা তো? এ যে দেখি নির্ভেজাল ‘অটল কেস'।
যুক্তি সতেরো: আমরা পৃথিবীর ক’জন দেখেছি নিজের প্রপিতামহকে? দেখিনি। তবু আমরা প্রপিতামহের নামটি তো বলি। এ কি বিশ্বাসের উদাহরণ নয়? আমাদের পিতার নাম জিজ্ঞেস করলে মায়ের বিবাহিত স্বামীর নামই উল্লেখ করি। তিনিই যে আমাদের জন্মদাতা, তার প্রমাণ কী? এখানেও তো আমরা বিশ্বাসকেই আঁকড়ে ধরি। আমরা বায়ু চোখে দেখি না, তারের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ দেখতে পাই না, দেখতে পাই না শব্দতরঙ্গ, তবু এ-সবের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। আমরা আকবরকে দেখিনি, গৌতমবুদ্ধকে দেখিনি। কোনও চাক্ষুস প্রমাণ ছাড়া এমনই হাজারো বিষয়কে আমরা যখন মেনে নিচ্ছি শুধুমাত্র বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে, তখন জ্যোতিষশাস্ত্রের ক্ষেত্রে কোন্ যুক্তিতে আমরা বিশ্বাসের ওপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে প্রমাণ হাজির করতে বলব?
বিরুদ্ধ যুক্তি: যুক্তিগুলো আপাত জোরাল মনে হলেও, বাস্তবিকপক্ষে এগুলো কোনও যুক্তি নয়। কেন নয়? এই প্রশ্নের আলোচনাতেই এবার ঢুকছি।
প্রাচীন যুগ থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি পণ্ডিত মহল প্রত্যক্ষ প্রমাণকে শ্রেষ্ঠ বললেও প্রত্যক্ষ অনুগামী প্রমাণকে অবশ্যই স্বীকার করে নিয়েছেন। চিরক সংহিতা’য় প্রত্যক্ষ অনুগামী তিন প্রকারের অনুমানের কথা বলা হয়েছে (১) বর্তমান ধূম দেখে বর্তমান অগ্নির অনুমান। (২) বর্তমান গর্ভবতী মহিলা দেখে তার অতীত মৈথুনের অনুমান। (৩) বর্তমান সুপুষ্ট বীজ দেখে ভবিষ্যৎ বৃক্ষ ও ফলের অনুমান। এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি আগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন অনুমানের কথা বলা হয়েছে; অনুমানগুলো বর্তমান দেখে বর্তমান, বর্তমান দেখে অতীত এবং বর্তমান দেখে ভবিষ্যৎ বিষয়ক। এই নিয়মে এখনও আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে অনুমান ও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি। আমার অস্তিত্ব থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আমার প্রপিতামহের অস্তিত্ব ছাড়া পিতার অস্তিত্ব সম্ভব নয়। একই ভাবে পিতার