অধ্যায় : নয়
জ্যোতিষশাস্ত্রের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের যুক্তি
এক: জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতিষীদের মধ্যেই রয়েছে চূড়ান্ত স্ববিরোধিতা। জ্যোতিষশাস্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আক্রমণ হেনেছে জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতিষীরা। বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদীরা নয়।
জ্যোতিষীরা মানুষের ভাগ্য গণনা করেন প্রধানত দু'ভাবে। জাতকের জন্মের সময় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান অনুসারে তৈরি রাশিচক্রের সাহায্যে অথবা হাতের রেখা দেখে। এ-ছাড়াও কপাল, কান ইত্যাদি দেখেও কেউ কেউ মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন বলে দাবি করে থাকেন।
কোন্ ভিত্তিভূমির ওপর নির্ভর করে একজন জ্যোতিষী একজন মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলতে পারেন? এ-সবের হদিশ কী যুক্তিতে দেওয়া সম্ভব? নাকি পুরো ব্যাপারটাই একজন মানুষের চেহারা, চোখ-মুখ, পোশাকআশাক, কথাবার্তা ইত্যাদি বিচার করে আন্দাজে ঢিল ছোড়া?
এ-ক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতিষীদের উত্তর স্পষ্ট। প্রতিটি মানুষেরই ভূত ভবিষ্যতের হদিশ জানা প্রকৃত জ্যোতিষীদের কাছে নেহাতই জল-ভাত, কারণ মানুষের ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত। অর্থাৎ, মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কীভাবে অতিবাহিত হবে, সবই জন্ম মুহূর্ত থেকেই ঠিক হয়ে আছে। এই ঠিক হয়ে থাকাটা অলঙ্ঘ, অপরিবর্তনীয়, পূর্ব থেকেই নির্ধারিত। এই যে আজ এই মুহূর্তে আপনি আমার লেখার এই অংশটি পড়বেন, এও আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে রয়েছে। জ্যোতিষীরা গণনা করে সেই নির্ধারিত ভাগ্যকে জানতে পারেন।
এই জ্যোতিষীরাই আবার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গ্রহরত্ন, গাছের শেকড়, ধাতু, তাবিজ, কবজ ইত্যাদি ধারণের ব্যবস্থাপত্র দেন। জ্যোতিষশাস্ত্রেও রয়েছে গ্রহকে তুষ্ট করার নানা ব্যবস্থাপত্র।
জ্যোতিষীরা আবার প্রয়োজনমাফিক শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে গণনা না মেলার জন্য ‘পুরুষকার’ অর্থাৎ মানুষের উদ্যোগকে টেনে আনেন।
এরপর জ্যোতিষী ও জ্যোতিষশাস্ত্রকারদের কাছে যে প্রশ্নটা স্বভাবতই চলে আসে তা হল—
১৯৪