পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। অর্থাৎ জন্মকালেই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানকালীন বিকিরণ বা কম্পন জাতকের শরীরে পৌঁছচ্ছে না। আলোর গতিবেগ সেকেণ্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার। জ্যোতিষশাস্ত্রে যে নক্ষত্রগুলোর বিকিরণজনিত প্রভাবের কথা বলা হয়েছে সেই নক্ষত্রগুলো এতই দূরে অবস্থান করে যে, নিকটতম নক্ষত্রটি বিকিরিত আলো ও কম্পন পৃথিবীতে এসে পৌঁছতে লাগবে কম করে সাড়ে চার বছর। এই মত প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাহলে দেখা যাচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের যে বিকিরণ ও কম্পন জাতকের অদৃষ্টকে প্রভাবিত করছে, সেই বিকিরণ জন্মকালীন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের বহু আগেকার।
সুতরাং “গ্রহ-নক্ষত্রের বিকিরণ ও কম্পনই ভাগ্যকে নির্দিষ্ট করছে”, জ্যোতিষীদের এই বক্তব্যকে ঠিক ধরে নিলে বিকিরণ পৃথিবীতে পৌঁছবার সময় গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর অবস্থান কোথায় কোথায় ছিল, সেটা নির্ণয় করে জন্মকালীন গ্রহ অবস্থানের চিত্রটি আঁকা একান্তভাবেই আবশ্যক।
আবার, “জন্মাকালীন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানই ভাগ্যকে নির্দিষ্ট করে”, জ্যোতিষীদের এই বক্তব্যকে ঠিক বলে ধরে নিলে গ্রহ-নক্ষত্রের বিকিরণ ও কম্পনজনিত প্রভাবকে পুরোপুরি অস্বীকার করতে হয়। আর বিকিরণ অস্বীকার করলে, বিকিরণ প্রভাব কাটাতে গ্রহরত্ন, ধাতু ইত্যাদি ধারণ করাও অর্থহীন হয়ে যায়।
‘জন্মকালীন গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান জাতকের অদৃষ্ট নির্ধারণ করে’ এবং ‘জন্মকালীন গ্রহ নক্ষত্রের বিকরণ জাতকের অদৃষ্ট নির্ধারণ করে'—এই দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী একটি মতকে মেনে নিলে অপরটিকে অস্বীকার করতেই হয়। যে শাস্ত্র পরস্পরবিরোধী মতামতকেই স্বীকার করে, তাকে যুক্তিহীন ও বিজ্ঞান-বিরোধী শাস্ত্র ছাড়া আর কিছু বলা চলে না।
আট: “মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কী ঘটবে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই তা ঠিক হয়ে যায়। আর এ-সব ঠিক করে জন্মের সময়কার গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান।” জ্যোতিষীরা এমনই দাবি করে থাকেন।
মজাটা হলো এই, জ্যোতিষীরা পরের কাছে ‘ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত’
তত্ত্ব বুক বাজিয়ে গলা ফুলিয়ে যে দাবিটি করেন, সেই
দাবিটির প্রতি নিজেদের আস্থা নেই এক তিলও।
নিজেদের পরিবারের অসুখ হলে
দৌড়োন ডাক্তারের কাছে।
ছেলে-মেয়েদের ভাল স্কুলে ভর্তি করতে উমেদার ধরেন। পড়াশোনায় চৌখশ করতে ভাল টিউটরের খোঁজে হন্যে হন। তারপর রয়েছে ভাল কলেজে ভর্তির সমস্যা। সমাধানের উপায় বের করতে বাবাকে উমেদার ধরতে দৌড়তে হয়।