মানুষের ভাগ্যের নির্ধারক।
বহু রোগের কারণ জীবাণু। বিভিন্ন ওষুধ বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ধ্বংসে সক্ষম। ওষুধ প্রয়োগে জীবাণু ধ্বংস করে; ওষুধের এই ক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বার বার। কখনও রোগ জীবাণু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে শরীরে, তারপর ওষুধ প্রয়োগ করে তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। কখনও বা টেস্টটিউবে সংরক্ষিত রোগজীবাণুর ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে তার কার্যকারিতার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বার বার এই জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই শুধু এইসব ওষুধের ক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। রত্নের যে রোগজীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতা আছে—এই দাবির পিছনে কোনও বাস্তব সত্যতা নেই। কোনও গবেষণাগারে এই জাতীয় পরীক্ষা হয়েছে? পরবর্তীকালে বিভিন্ন গবেষণাগারে বিভিন্ন জীবাণুর ওপর রত্ন প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে? এবং সেই পরীক্ষাগুলোতে রত্নের কার্যকর ভূমিকা সার্থকভাবে প্রমাণিত হয়েছে? এ সবের একটাই উত্তর—'না'। এর পরও কেউ যদি এমন আলটপকা একটা দাবি করেই বসেন, সেই দাবির সমর্থনে প্রমাণ নিশ্চয়ই তিনি হাজির করবেন। প্রমাণের যথার্থতা বিষয়ে আমাদের প্রাথমিক বিশ্বাস উৎপাদন করতে পারলে আমাদের সমিতি (সমিতির সদস্যদের মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহু চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীও রয়েছেন) সর্বতোভাবে ওই দাবিদারের দাবিকে বিজ্ঞানের কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হবে।
বাইশ: জ্যোতিষীদের মতে, মহাজাগতিক রশ্মি বা cosmic-ray-র যে সাতটি রঙ আছে (বেগুনী, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা, এবং লাল) তার প্রভাব বিদ্যমান প্রতিটি মানুষের ওপর। মানুষের শরীরে রয়েছে সাতটি স্নায়ুচক্র। মহাজাগতিক রশ্মির সাতটি রঙই এই সাত স্নায়ুচক্রের নিয়ন্তা। যদি কোনও কারণে মানুষ কোনও একটি বা একাধিক মহাজাগতিক রঙকে কম শোষণ করে বা গ্রহণ করতে অক্ষম হয় তখনই দেখা দেয় শরীর, মনের অসুস্থতা। সেই সময় জ্যোতিষীরা রোগ জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন, শরীরে কোন্ রঙের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ওই ঘাটতি পূরণের জন্যেই রোগীকে ধারণ করতে বলা হয় গ্রহরত্ন। জ্যোতিষীদের ধারণা, এইরত্নের মধ্যে দিয়ে শরীরে ঘাটতি পড়া রঙটি ধারণকারীর শরীরে শোষিত হয়। ফলে শরীরে রঙের ঘাটতি কমে, এবং শরীর ওই ঘাটতিজনিত অসুখ থেকে মুক্ত হয়।
আরও একরকমভাবে রত্ন-চিকিৎসা পদ্ধতি চালু আছে। এ-ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের পর, রোগের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রহরত্নটি সুরাসারে (absolute alcohol) নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখা হয়। তারপর এই সুরাসার জলে মিশিয়ে অথবা সুগার অফ মিল্কে মিশিয়ে নির্দিষ্ট মাপে রোগীকে খাওয়ানো হয়। এভাবেও রঙের ঘাটতি মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রত্নে, রত্ন থেকে সুরাসারে, সুরাসার থেকে জল বা সুগার