যখন রক্তস্বল্পতার জন্য রোগীকে LIVOGEN CAPSULE বা এই জাতীয় ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন, তখন পরিবর্তে রোগিণীকে এক কুইণ্ট্যাল লোহার ওপর শুইয়ে রাখলেও কিছুই ফল পাওয়া যাবে না। কারণ মৌল দ্রব্য বা ধাতু শরীরে ধারণ করলে তা কখনই শোষিত হয়ে দেহে প্রবেশ করে না। সুতরাং শরীরে প্রবেশ করে ঘাটতি মেটানোর প্রশ্নও তাই একান্তই অবান্তর।
জানি, এখানেই আলোচনা থামবে না। থামেওনি। একটি অতি জনপ্রিয় বাংলা দৈনিকের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক নিজেই বিশ্বাস করেন, শরীরে ধাতুর প্রভাব আছে, রত্নের প্রভাব আছে ইত্যাদি। তিনি তাঁর বালক পুত্রের রোগমুক্তির জন্য তাই একই সঙ্গে ধাতু, রত্ন ইত্যাদি এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হয়েছেন। আর এই পত্রিকার জনপ্রিয়তার কল্যাণে ভদ্রলোক বিজ্ঞান-আন্দোলন নিয়ে লিখছেনও।
অমৃতলালের ‘মেটাল ট্যাবলেট' রহস্য
আমার এক অধ্যাপক বন্ধুর স্ত্রীর আঙুলে একটি ধাতুর আংটি দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “এটা তো শখে পরেছ বলে মনে হচ্ছে না; ধাতু কাজ করবে ভেবে পরেছ?”
উত্তরটা বন্ধু-পত্নীর বদলে বন্ধুই দিয়েছিলেন, “ঠিকই ধরেছ, এটা মেটাল-ট্যাবলেট দিয়ে তৈরি আংটি। জানি, তুমি এরপর একগাদা লেকচার দেবে—শরীরে ধাতুর কোনও প্রভাব নেই। কিছুদিন আগে হয়তো তোমার কথাটা বিনা প্রতিবাদেই মেনে নিতাম। কিন্তু আজ মানতে পারছি না। তুমি কি জানো, বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ এস. এন চ্যাটার্জি মানব শরীরে ধাতুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন?”
“তুমি কোথায় ওঁর মতামত দেখেছ?”
“পত্রিকায়।”
“অমৃতলালের বিজ্ঞাপনে?”
“না, না বিজ্ঞাপনে নয়। একটা প্রবন্ধে ডঃ চ্যাটার্জির মতামত প্রকাশ করা হয়েছিল। কাগজটা আমি যত্ন সহকারে তুলে রেখে দিয়েছি। দাঁড়াও দেখাচ্ছি।”
বন্ধুটি একটি পত্রিকা এনে মেলে ধরলেন আমার সামনে। একটা পুরো পাতা জুড়ে পাঁচটি প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সবগুলোই জ্যোতিষ সম্পর্কিত। তারই একটি প্রকাশিত হয়েছে জ্যোতিষী অমৃতলাল সম্পর্কে কয়েকজন বিশিষ্টের মতামত। এদের মধ্যে আছেন রাজনীতিক, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং একমাত্র বিজ্ঞান ডঃ এস. এন. চ্যাটার্জি। লেখাটির শিরোনাম—অমৃতলাল: কে কী বলছেন। লেখক—দেবপ্রসাদ দাস:
দেবপ্রসাদ দাসের লেখাটির দিকে আঙুল দেখিয়ে বন্ধুটি বললেন, “এখানটায় পড়ো।”
লেখাটি আমার আগেই পড়া। এবং ওটা পড়ার পর অনেক জলই গড়িয়েছে।