বললাম, “অনুগ্রহ করে আপনার বক্তব্য লিখে আমার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবেন।”
ডঃ চ্যাটার্জি বললেন, “অবশ্যই পাঠিয়ে দেব। তারই সঙ্গে আর এক দফা ধন্যবাদ জানালেন সত্যানুসন্ধানের ব্যাপারে আন্তরিকতার জন্য।
গতকালই এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা যে সায়েন্স কলেজে মিলিত হয়েছিলাম, জানালাম। ১৮ জন বিজ্ঞানীর স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি তুলে দিলাম তাঁর হাতে। বললাম, “পড়ে দেখুন, এই বিষয়ে আপনি সহমত পোষণ করলে তবেই এতে আপনার স্বাক্ষরটি দিতে পারেন।”
ডঃ চ্যাটার্জি পড়লেন, এবং এমন অভুতপূর্ব একটি কাজের জন্য আমাকেই একগাদা প্রশংসা করে স্বাক্ষর দিলেন ওই বক্তব্যে।
এরও পর ভারতবর্ষের বিশিষ্ট আরো ৩৬ জন বিজ্ঞানীর কাছে প্রস্তাবের একটি করে কপি পাঠিয়ে এই বিষয়ে সহমত হলে স্বাক্ষর করতে এবং ভিন্নমত পোষণ করলে তাও দ্বিধাহীন ভাষায় জানতে অনুরোধ করেছিলাম। ৩৬ জনই সহমত পোষণ করেছিলেন।
ইতিমধ্যে ডঃ স্মৃতিনারায়ণ চ্যাটার্জির চিঠি পেলাম, চিঠির তারিখ ১ জুলাই ১৯৮৬। ইংরেজিতে লেখা। বাংলায় অনুবাদ করলে বক্তব্যটা দাঁড়ায় এই রকম
|
সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স
|
ফোন-৫৬-২৪৫১
|
প্রিয় শ্রীঘোষ,
আমার অফিসে এসে অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি আমার কাছে ঘটনাটি জানতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রচেষ্টাকে আমি প্রশংসা করি।
আমার বক্তব্য বলে ‘পরিবর্তন’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত শ্রীদেবপ্রসাদ দাসের লেখা একটি বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে, আপনার অনুরাধের উত্তরে এই তথ্যগুলো জানাচ্ছিঃ
আমি শ্রীদেবপ্রসাদ দাসকে চিনি না, কখনও ওঁর সঙ্গে পরিচিত হইনি এবং কখনই ওঁকে কোনও বিষয়েই কিছু বলিনি বা লিখিতভাবে জানাইনি। যাই হোক, অমৃতলালের ব্যক্তিগত অনুরোধে আমি বছর দু’য়েক আগে সহজ মন্তব্য করেছিলাম আধুনিক বিজ্ঞানে ধাতুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকার করে (এবং এই নিয়ে, আর একটিও বাড়তি কথা বলিনি) এবং এটা খুবই মজার যে জ্যোতিষীরাই ব্যক্তির উপকারের জন্য ধাতু ব্যবহারের পক্ষে ওকালতি করছে।
আমি কোনও ভাবেই সমর্থন জানাইনি ‘অমৃতলাল’-এর ‘মেটাল-ট্যাবলেট’-এর বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নিয়ে বা তার মিশ্রণ-পদ্ধতি নিয়ে।