আমার নাম বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছেন; এবং একই সঙ্গে কথা দিয়েছেন এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে কখনই ঘটবে না।
ইংরিজিতে চিঠির বয়ানটা ছিল এই রকম—“I am happy to inform you that ‘Amritlal' has very recently expressed regret (in writing) that he utilized my name in some advertisements out of misunderstanding and has also given me word that this will not recur in future."
এই ঘটনার পর আর একটি বারের জন্যেও অমৃতলাল ডঃ চ্যাটার্জির বক্তব্য বলে কোনও কথা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেননি। এটা অবশ্যই আমাদের সমিতির এক বিশাল জয়।
এর পরেও যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেবে, তা হল, প্রফুল্লচন্দ্র সেন কি তবে মিথ্যে কথা বলেছিলেন? মিথ্যে কথা বলেছিলেন আমার চিকিৎসক বন্ধুটি? বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা মানবদেহে ধাতু ও রত্নের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, “অনেক সময় ধাতু, রত্ন ইত্যাদি ধারণকারীদের উপর কিছু কিছু প্রভাব বিস্তার করিয়া থাকে, তবে সেই প্রভাব সম্পূর্ণতই মানসিক”—এটাও তো প্রভাবই, তবে গোলমালটা কোথায়?
প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনায় আসছি। আপনি, আমি প্রত্যেকেই আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বুঝতে শিখেছি—সমাজশীর্ষ মানুষরাও মিথ্যাশ্রয়ী হন; তবুও প্রফুল্লচন্দ্র বা আমার চিকৎসক বন্ধুর দাবির মধ্যে এমন অবাস্তব বা অসম্ভব কিছু দেখতে পাচ্ছি না, যার জন্যে তাঁদের দাবিটিকে এক কথায় নাকচ করে দিতে হবে মিথ্যাভাষণ বলে।
এখন নিশ্চয়ই আমার কথার মধ্যে কেউ কেউ পরস্পরবিরোধিতা খুঁজে পাচ্ছেন। আপাতভাবে যা আপনার কাছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বলে মনে হচ্ছে, তা-ই যুক্তি-নির্ভর মনে হবে একটি বিশেষ চিকিৎসা-পদ্ধতির কথা শোনার পর; মানুষের মানসিক অবস্থা বিষয়ে জানার পর৷
বিশ্বাসে অসুখ সারে
যে চিকিৎসাপদ্ধতির কথা এবার বলতে যাচ্ছি, তার নাম, ‘প্ল্যাসিবো’ (placebo) চিকিৎসাপদ্ধতি। 'প্ল্যাসিবো' বিশ্বাসনির্ভর চিকিৎসাপদ্ধতি। ‘Placebo’ কথার অর্থ “I will please”; বাংলা অনুবাদে দাঁড়ায়, “আমি খুশি করব।” ভাবানুবাদ করে বলতে পারি, “আমি আরোগ্য করব।” রোগ নিরাময়ে ক্ষেত্রে, “আমি নিরাময় লাভ করব” এই আন্তরিক বিশ্বাসের গুরুত্ব অপরিসীম। গভীর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে বহু চিকিৎসকই অনেক রোগীকে সারিয়ে তুলছেন। ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির প্রথম খণ্ডে ‘বিশ্বাসে অসুখ সারে’ শিরোনামে