এই নিয়ে রয়েছে বিস্তৃত আলোচনা। বহু ‘কেস হিস্ট্রি’, সেই সব রোগীদের রোগমুক্ত করার ক্ষেত্রে কীভাবে বিশ্বাসকে কাজে লাগানো হয়েছিল ইত্যাদি নিয়ে যেভাবে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে, তাই আবার এই নিয়ে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। তবু যাঁরা প্রথম খণ্ডটি পড়েন নি তাঁদের কথা মনে রেখে অতি সংক্ষেপে একটু আলোচনা সেরে নিচ্ছি। এবং দুটি মাত্র উদাহরণের মধ্য দিয়ে পুরনো আলোচনার জের টানব, কথা দিচ্ছি।
আমাদের বহু রোগের উৎপত্তি হয় ভয়, ভাবনা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা থেকে। আমরা সামাজবদ্ধ জীব। আমাদের মানসিক ভারসাম্য নির্ভর করে সামাজিক পরিবেশের ওপর। সমাজ-জীবনে অদ্ভুত এক অনিশ্চয়তার অন্ধকার; বেঁচে থাকার জন্য, এগিয়ে যাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা; ধর্মোন্মাদনা; জাতপাতের লড়াই ইত্যাদি যতই বেড়েছে, দেহমনজনিক অসুখ বা psycho-somaticdisorder ততই বেড়েছে। সাম্প্রদায়িক লড়াইয়ের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন বলে এই সময় তাঁদের অনেকে দেহ-মনজনিত রোগের শিকার হয়ে পড়েন।
দেহমনজনিত কারণে যেসব অসুখ হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে, শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথা, মাথায় ব্যথা, হাড়ে ব্যথা, বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীর ঝিম-ঝিম করে ওঠা, পেটের গোলমাল, পেটের আলসার, গ্যাসট্রিকের অসুখ, ব্লাডপ্রেসার, পক্ষাঘাত, কাশি, ব্রঙ্কাইল অ্যাজমা, হার্টেব্যথা, ক্লান্তি, অবসাদ ইত্যাদি। এইসব রোগ যদি মানসিকভাবে শরীরে এসে থাকে তবে আবার বিশ্বাসবোধকে কাজে লাগিয়ে ঔষধিমূল্যহীন ক্যাপসুল, ইনজেকশন বা ট্যাবলেট প্রয়োগ করে অনেক ক্ষেত্রেই ভাল ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ মানসিকভাবে সৃষ্টি রোগকে মানসিকভাবেই আবার দূর করা যায়। এমনি একটি উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে দিচ্ছি।
১৯৮৭-র মে মাসের এক সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি সুপরিচিত পত্রিকার সম্পাদকের স্ত্রী এসেছিলেন আমার ফ্ল্যাটে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পারিবারিক চিকিৎসক, এক সাহিত্যিক-সাংবাদিক এবং জনৈক ভদ্রলোক। চিকিৎসক জানালেন বছর আড়াই আগে সম্পাদকের স্ত্রীর ডান উরুতে একটা ফোঁড়া হয়েছিল। ছোট্ট অস্ত্রোপচার, প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশন ও ওষুধে ফোঁড়ার ক্ষত সম্পূর্ণভাবে সেরে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। কিন্তু এরপর ওই শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতস্থান নিয়ে শুরু হয় এক নতুন সমস্যা। মাঝে-মাঝেই উরুর শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত ও তার আশপাশে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কখনও ব্যথার তীব্রতায় রোগিণী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই বিষয়ে যেসব চিকিৎসক দেখানো হয়েছে ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই কলকাতার শীর্ষস্থানীয়। ব্যথার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ এঁরা খুঁজে পাননি। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র, এক্স-রে ছবি ও রিপোর্ট সবই দেখালেন আমাকে।