বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

গ্ল্যাসিবো চিকিৎসা চালাতে হবে সে বিষয়ে একটা পরিকল্পনার কথা খুলে বললাম। এই ঘটনার কয়েকদিন পরে রোগিণীর পারিবারিক ডাক্তার সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া উরুর ফোঁড়ার ওপর নানারকম পরীক্ষা চালিয়ে একটা মেশিনের সাহায্যে রেখাচিত্র তৈরি করে গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িয়ে আবার রেখাচিত্র তুললেন। দু'বারের রেখাচিত্রেই রেখার প্রচণ্ড রকমের ওঠা-নামা লক্ষ্য করে স্থির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন, গ্যাংগ্রিনের বিষের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। একটা হইচই পড়ে গেল। নিউইয়র্কে খবর পাঠিয়ে দ্রুত আনানো হলো এমনই চোরা গ্যাংগ্রিনের বিষের অব্যর্থ ইনজেকশন। সপ্তাহে দু’টি করে ইনজেকশন ও দু'বার করে রেখাচিত্র গ্রহণ চলল তিন সপ্তাহ। প্রতিবার রেখাচিত্রেই দেখা যেতে লাগল রেখার ওঠা-নামা আগের বারের চেয়ে কম। ওষুধের দারুণ গুণে ডাক্তার যেমন অবাক হচ্ছিলেন, তেমন রোগিণীও। প্রতিবার ইনজেকশনেই ব্যথা লক্ষণীয়ভাবে কমছে। তিন সপ্তাহ পরে দেখা গেল রেখা আর আঁকা-বাঁকা নেই, সরল। রোগিণীও এই প্রথম অনুভব করলেন, বাস্তবিকই একটুও ব্যথা নেই। অথচ মজাটা হল এই যে, বিদেশি দামী ইনজেকশনের নামে তিন সপ্তাহ ধরে রোগিণীকে দওয়া হয়েছিল স্রেফ ডিসটিলড্ ওয়াটার।

 রোগিণীর রোগমুক্তির সপ্তাহ তিনেক পরেই ১৯৮৭-র ৫ জুলাই রবিবার ‘আজকাল’ পত্রিকার পাতায় আমার লেখা প্রকাশিত হলো; শিরোনাম—‘বিশ্বাসেও অসুখ সারে’। লেখাটি শুরু করেছিলাম এই রোগিণীর কেস দিয়ে। সেদিন যাকে নিয়ে লেখা, সেই ভদ্রমহিলা আমার লেখা পড়ে হেসেছিলেন প্রাণ খুলে। রহস্য ফাঁস হওয়ার পর কিন্তু আর একটি দিনের জন্যেও তাঁর উরুর ব্যথা আর ফিরে আসেনি।

 আবার দেহমনজনিত কারণে সৃষ্ট নয়, এমন অসুখের ক্ষেত্রেও যে অনেক সময় রোগীর বিশ্বাসবোধে অনেক অসম্ভবই যে সম্ভব হয়, তারই এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত কলকাতার ৪৪, বি রানি হর্ষমুখী রোডের বাসিন্দা মঞ্জু চ্যাটার্জি। মঞ্জুর অসুস্থতার কথা আমাকে জানিয়েছিলেন এক সময় গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে প্রচণ্ড রকম হইচই ফেলে দেওয়া ডাইনি সম্রাজ্ঞী ঈপ্সিতা রায় চক্রবর্তী। মঞ্জু বাতে পঙ্গু ও শয্যাশায়ী, সেই সঙ্গে তীব্র শয্যাক্ষতে আক্রান্ত। এক সময় বিভিন্ন চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। অবস্থা অনবরত অবনতির দিকেই গড়িয়েছে। শেষে হাসপাতালে ছিলেন কিছুদিন। সুস্থ হয়ে ওঠার সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পঙ্গুতা ও শয্যাক্ষত নিয়ে এক তীব্র যন্ত্রণাময় জীবন বহন করে চলেছেন।

 ৬ জুন ১৯৮৮, মঞ্জুর মামা তারাকুমার মল্লিক প্রথমবার ঈপ্সিতার কাছে আসেন। মঞ্জুর রোগমুক্তির জন্য। ঈপ্সিতা নানা ডাইনি প্রক্রিয়ার সাহায্যে এক ধরনের অলৌকিক জল তৈরি করে দেন। সাত দিন ওই জল ব্যবহার করে মঞ্জু নাকি দারুণ ফল পেয়েছেন। ব্যথা-যন্ত্রণা কমতে শুরু করেছে। সামান্য হলেও কমতে শুরু করেছে।