বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৪১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩৫
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

 ৮ জুলাই ’৮৮ বিকেলে গেলাম মঞ্জু চ্যাটার্জির বাড়িতে। শয্যাশায়ী মঞ্জুর ঘরে ঢুকেই শয্যাক্ষতের তীব্র গন্ধ পেলাম। মঞ্জু মধ্যবয়স্কা। কথা বলেছিলাম তিনজনের সঙ্গে— মঞ্জু, তাঁর মা শান্তি সেন এর মঞ্জুর সেবার দায়িত্বে থাকা মীরা দাস। তিনজনই জানালেন, অনেক চিকিৎসাই তো হল, কোনও কাজই হয়নি। দিনে দিনে অবস্থা খারাপই হচ্ছিল। মা ঈপ্সিতার দয়ায় কিছুটা কাজ হয়েছে। জ্বালা-যন্ত্রণায় ঘুম আসে না। মঞ্জু এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বললেন, এ-যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। আপনি তো ঈপিতা মায়ের কাছ থেকে আসছেন। একটা কিছু করুন, যাতে যন্ত্রণাটা দূর হয়, ঘুমোতে পারি, ভাল হয়ে উঠতে পারি।

 বললাম, আপনি চোখ বুজুন। আমি কিছু কথা বলব, সেগুলো এক মনে শুনতে থাকবেন। আপনার যন্ত্রণা কমে যাবে, ভাল লাগবে, ঘুম আসবে।

 মঞ্জু চেখে বুজলেন। শান্তি ও মীরার উপস্থিতিতেই মঞ্জুর মস্তিষ্কে কিছু ধারণা সঞ্চার করছিলাম, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘সাজেশন’। বলছিলাম, আপনার ঘুম আসছে...., সমস্ত শরীরের ব্যথা-যন্ত্রণা কমে যাচ্ছে...., ভাল লাগছে, আমি চলে যাওয়ার পরও আপনার ভাল লাগবে...., যন্ত্রণা কমে যেতে থাকবে..., সুন্দর ঘুম হবে... ইত্যাদি।

 মিনিট দশেক পরে মঞ্জুকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন লাগছে? বললেন, খুব ভাল লাগছে, ব্যথা-যন্ত্রণা অনেকটা কম। এবার আমার বিদায় নেবার পালা। বললাম, পরশু সকালে এসে খবর নেব, কেমন আছেন। ১০ জুলাই রবিবার মঞ্জু, শান্তি, মীরা এবং তারাকুমার মল্লিকের সঙ্গে কথা হল। চারজনেই জানালেন, আমার কথামতো সত্যিই যন্ত্রণা কমে গেছে। ভাল ঘুমও হচ্ছে।

 মঞ্জুর এই যন্ত্রণা কমা বা অনিদ্রা দূর হওয়ার পিছনে ঈপ্সিতার কোনও অলৌকিক ডাইনি ক্ষমতাই কাজ করেনি। কাজ করেছিল ঈপিসতার অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি মঞ্জুর অন্ধবিশ্বাস। আমিও মঞ্জুর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই কৃতকার্যতা পেয়েছিলাম।

 একইভাবে প্রফুল্লচন্দ্র সেনের রোগমুক্তির ক্ষেত্রে তামা বা বিদ্যুৎ-শক্তির কোনও বৈশিষ্ট্য বা গুণই কাজ করেনি, কাজ করেছিল তামা, বিদ্যুৎশক্তি এবং সম্ভবত ডঃ প্রতুল মুখার্জির প্রতি প্রফুল্লচন্দ্রের গভীর বিশ্বাস। আমার ডাক্তার বন্ধুর ব্লাডপ্রেসার কমার পিছনেরও ধাতুর বেল্টটির প্রতি বন্ধুর পূর্ণ বিশ্বাসই কাজ করেছে।

 ধাতু বা রত্নের প্রতি তীব্র বিশ্বাসের দরুন অথবা যিনি রত্ন বা ধাতু ধারণের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন, তাঁর প্রতি বিশ্বাসের জন্য এই ধরনের কিছু কিছু মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে কিছু কিছু মানসিকভাবে সৃষ্ট রোগ সেরে যেতে পারেই। এর কোনটির জন্যই ধাতু বা রত্নের কোনও বৈশিষ্ট্য বা গুণকে দায়ী করলে আমরা ভুল করব। কারণ এই ক্ষেত্রে ধারণকারী মানুষটিকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে ধাতু, রত্ন বা জ্যোতিষীর প্রতি গভীর বিশ্বাস, ধাতু, রত্ন বা জ্যোতিষী নয়। বিশ্বাস