না করে ধারণ করলে এর ফলও হতো অবশ্যই শূন্য। এই কথাগুলোই বিজ্ঞানীরা বলতে চেয়েছিলেন।
গ্রহ-বিচারে রত্নবিধান
“সৃষ্টির মূলে রয়েছে সূর্যরশ্মি। সূর্য থেকে যে রশ্মি বের হয়ে তা সৌরমণ্ডলের অন্যান্য গ্রহের উপর প্রতিভাত হয়ে বিচ্ছুরিত হয়। এই রশ্মিকে বলা যেতে পারে ‘কসমিক রে’, বা মহাজাগতিক রশ্মি। এই মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীতে এসে যখন পৌঁছয়, বিভিন্ন মানুষের উপর তার প্রভাব হয় ভিন্ন-ভিন্ন। পদার্থ বিজ্ঞান এই মহাজাগতিক রশ্মির কিছু-কিছু প্রভাব ও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছে, এখনও বহু তথ্য অনাবিষ্কৃত রয়েছে। প্রাচীন ঋষিরা এই মহাজাগতিক রশ্মিগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ওই রশ্মিসমূহ মানুষের দেহে ও মনে কী প্রভাব বিস্তার করে ও তার প্রতিক্রিয়া কী তা নিয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁদের গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে এখনও আমরা এই শাস্ত্রচর্চা করছি। এই মহাজাগতিক রশ্মির অসাম্য মানুষের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করতে পারে। এই অসাম্য রাশিচক্রের ছক বা হাতের রেখা থেকে নির্ণীত হয়। যে কোনও মানুষের রাশিচক্রে বিভিন্ন গ্রহের অবস্থান, সেই সব গ্রহ থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মির প্রভাবের উপর শুভাশুভ ফল নির্ভর করে। ধরুন, একজনের রাশিচক্রে বৃহস্পতির অবস্থান অশুভ। এর ফলে বৃহস্পতি-গ্রহ থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মি সেই জাতকের বা জাতিকার ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষতি যাতে না হয়, তাই ওই অসাম্য দূর করার জন্য আমরা রত্নধারণ করতে বলি। বৃহস্পতি-গ্রহের অসাম্য দূর করতে ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট কিছু রত্ন।”
এই যে কথাগুলো আপনাদের কাছে তুলে দিলাম, এগুলো শুনে এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই হাসি সামলাতে পারছেন না। ভাবছেন, এমন বিজ্ঞান-বিরোধী মন্তব্য করেছেন কোনও এক অশিক্ষিত মানুষ। ভাবছেন, যাকগে, জ্ঞানের আলোর থেকে বহু দূরে থাকা এই মানুষটির চেঁচামেচিতে কী বা এসে যায়? পাগলে কিনা, বলে—তাতে আমাদের কী বা এসে যায়? ওর এমন পাগলামি, এমন অশিক্ষার অন্ধকার তো বিশাল প্রচারের হাত ধরে আমাদের এই প্রজন্ম বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে আসবে না; থাকগে একা, আপন মনে।
বাস্তব অবস্থাটা কিন্তু তা নয়। এই যুক্তিহীন মূর্খের প্রলাপ প্রকাশিত হয়েছে বাংলাভাষার এক অতি জনপ্রিয় মহিলা পাক্ষিকে। আমি সেখান থেকেই এই অংশটুকু তুলে দিয়েছি। এরপরও অনেক কিছুই তিনি বলেছেন। যেমন—“এবার আসা যাক রত্নবিদ্যার গভীরে বায়োবেমিস্ট্রি (প্রাণ-রসায়ন) অনুযায়ী দেহে ১২টি অজৈব লবণের সাম্য দরকার। গ্রহ থেকে বিচ্ছুরিত রশ্মির কোপে এই লবণের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। রত্ন ধারণ করলে, সেই রত্নের মধ্যে দিয়ে যে মহাজাগতিক রশ্মি প্রতিফলিত, প্রতিসরিত ও বিচ্ছুরিত হয়, তা মন ও শরীরের উপর প্রভাব