নানা ধরনের শক্তিশালী, মহাশক্তিশালী, কবচের বিজ্ঞাপন দেখবেন। এঁদের বেশিরভাগই কবচে কিছু আশীর্বাদী ফুল, বেলপাতা ভরে দেন। এ তো স্রেফ প্রতারণা। গ্রহশান্তির জন্য গ্রহরত্ন ধারণ করা অনেক সহজ। কারণ ভাল গ্রহরত্ন পাওয়া অনেক সহজ; কিন্তু খাঁটি, ঋষিতুল্য কবচ তৈরি করার মতো মানুষ বিরল।
কবচ তৈরির পর সঠিক উচ্চারণ প্রতিনিয়ত বজায় রেখে সঠিক সংখ্যায় জপ বাস্তবিতই কেউ করতে পারতেন কি না, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। পুরনো পুঁথি ও ‘পুরোহিত দর্পণ’-এ দেখেছি শুক্রের কবচের জন্য ২১,০০০ বার জপ করার প্রয়োজন হয় ‘ওঁ হ্রীং শুক্রায়”। কেতুর বেলায় ২২,০০০ বার জপতে হয় ‘ওঁ হ্রীং ঐং কেতবে’। সবচেয়ে কম জপতে হয় রবি-কবচের বেলায়। তাও নেই নেই করে ৬,০০০০ বার জপতে হবে ‘ওঁ হ্রীং হ্রীং সূর্যায়’। জপের গণনতা কম-বেশি হলেই তো কবচের গুণ ফক্কা (এটা অবশ্য আমার কথা নয়, পুরনো পুঁথিপত্তর ও পুরোহিত দর্পণের কথা)
গ্রহের খারাপ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে, জীবনে সাফল্য পেতে কবচের পরিবর্তে রত্ন ব্যবসায়ে কোলকাতার যিনি প্রথম নেমেছিলেন তাঁর নাম ফণিভূষণ রায়। ফণিবাবু ১৯৪৫ সালে বিবেকানন্দ রোডে প্রতিষ্ঠা করলেন এম. পি.-র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
কলকাতায় প্রথম জ্যোতিষশাস্ত্র ছাত্রদের শেখানো শুরু করেন হৃষিকেশ শাস্ত্রী। তাও এটা বিশ শতকের একেবারে গোড়ার কথা। এর আগে জ্যোতিষশাস্ত্রের শিক্ষণকেন্দ্র বলতে বোঝাত কোলকাতার গ্রেট স্ট্রিট বা হাতিবাগান। হাতিবাগানের মতোই হাওড়ার জানবাড়িও জ্যোতিষচর্চার কেন্দ্রস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
হাতিবাগান বা গ্রে স্ট্রিটের শাস্ত্রী পরিবারেই চার ছেলে কৈলাসচন্দ্র, রমেশচন্দ্র, হরিশচন্দ্র ও কাশীশ্বর জ্যোতিষী হিসেবে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ লাভ করেছিলেন। রমেশচন্দ্র আনন্দবাজার পত্রিকাগোষ্ঠীর কৃপায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছিলেন এবং পরিচিত হয়েছিলেন ‘জ্যোতিষ সম্রাট’ হিসেবে।
রমেশচন্দ্র বসবাস শুরু করেছিলেন ওয়েলিংটন স্কোয়ারের কাছে। বাসস্থানের লাগোয়া গড়ে তুলেছিলেন জ্যোতিচর্চা ও জ্যোতিষ-শিক্ষণ-কেন্দ্র। তবে এটা ছিল তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত শিক্ষাদানের ব্যাপার। নাম দিলেন ‘অল ইণ্ডিয়া অ্যাস্ট্রোলজিকাল অ্যাণ্ড অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি’।
কলকাতার জ্যোতিষচর্চার এবং গ্রহরত্ন-ব্যবসায়ের রমরমা শুরু বিশ শতকের ষাটের দশকে। ষাটের দশকের শুরুতে স্বর্ণনিয়ন্ত্রণ আইন জারি হতে কোলকাতার বহু সোনার দোকানেরই ঝাঁপ বন্ধ হয়েছিল। অনেক দোকানই রূপান্তরিত হয়েছিল শয্যা-সামগ্রী বা শাড়ি-কাপড়ের দোকানে। বেশ কিছু দোকানের হাত-বদলও ঘটেছিল। অনেক স্বর্ণশিল্পীর অর্থাভাবে আত্মহত্যাও করেছিলেন। যে-সব সোনার