কলকাতার প্রথম নামী মহিলা জ্যোতিষী পারমিতা। তারপর যাঁদের নাম উল্লেখযোগ্য, তাহলে তাঁরা হলেন অঞ্জলি দেবী, প্রিয়াংকা, লোপামুদ্রা, মণিমালা, কৃষ্ণা, কল্যাণী মুখার্জি। এখন টিভি ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারে আছেন জয়া, অনুরাধা, দেবকন্যা, গোপা শাস্ত্রী, খনা মা। এ-ছাড়া আরও অনেক মহিলা জ্যোতিষীরাই ডুবছেন, আবার নতুন নতুন নাম উঠে আসছেন। নামী-দামি হয়ে উঠছেন। নামটা কতখানি ব্যাপক, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে বিজ্ঞাপন ও প্রচারের ওপর। যার যত বিজ্ঞাপন, যার মত প্রচার, সে তত নামী। আর যা যত নাম, তার তত দাম।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারের দৌলতে এককালের সম্রাট জ্যোতিষীর
দলও আবার এক সময় সিংহাসন ছেড়ে দিতে বাধ্য
হন, অন্য জ্যোতিষীদের সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও
প্রচারের প্রতিযোগিতায় এঁটে
উঠতে না পেরে।
পুরনো দিনের পঞ্জিকা বা পত্রিকার পাতা ওল্টালেই চোখে পড়বে অতীত জ্যোতিষ-সম্রাটদের বিজ্ঞাপন। একটু কষ্ট করে খোঁজ করলেই দেখতে পাবেন, বর্তমানে অচেনা এইসব জ্যোতিষীদের অনেকেই এখনও জীবিত এবং এখনও জ্যোতিষ-পেশা আঁকড়ে আছেন।
বিজ্ঞাপনের দৌলতে ১৫ থেকে ২৫ বছর আগের নামী-দামি জ্যোতিষীরা হলেন ডঃ অসিতকুমার চক্রবর্তী, পণ্ডিত রামকৃষ্ণ শাস্ত্রী, সমরেন্দ্র দাস, শ্রীরবি শাস্ত্রী, মনসারাম, নিমাই ঠাকুর, ডঃ সন্দীপন চৌধুরী, পারমিতা, প্রিয়াংকা, নরোত্তম সেন, শুকদেব গোস্বামী ওরফে ভৃগু-আচার্য, শ্রীভৃগু ও অমৃতলাল।
বিজ্ঞাপনে ২০০৫ সাল থেকে যাঁরা সাধারণের পকেট হালকা করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন, তাঁরা হলেন— রামকৃষ্ণ শাস্ত্রী, সুভাষ শাস্ত্রী, দেবযানী, শ্রীজয়ন্ত, মনসারাম, নিমাই ঠাকুর, মলয় শাস্ত্রী, শ্রীভৃগু, খনা মা, জয়া গাঙ্গুলী, বশিষ্ঠানন্দ, গৌতম ভারতী, প্রলয় শাস্ত্রী, অমৃতলাল।
অমৃতলাল এক বিষয়ে সবার চেয়ে আলাদা। তিনি রত্ন ধারণের ব্যবস্থাপত্র দেন। নাপরিবর্তে দেন মেটাল ট্যাবলেট।
বৃহত্তর কলকাতায় ‘জ্যোতিষ শিক্ষণ কেন্দ্র'-এর সংখ্যা ৫। জ্যোতিষ বিষয়ক প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ৪টি। ২০০৩-এর সমীক্ষায় জানা যায়, বৃহত্তর কলকাতায় ছোট-বড় মিলিয়ে জ্যোতিষীর সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার। জ্যোতিষ চর্চা করে মাসিক আয় ১০ হাজার বা তার চেয়ে বেশিদের সংখ্যা এই রকম:—