বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৫০
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

গাড়িতে চাপা দিয়ে একজনের মৃত্যু ঘটাবেন। তার জন্য তাঁকে জেলে যেতে হবে। এরই সঙ্গে আরও একজনের ভাগ্যের একটা ঘটনা নির্ধারিত হয়ে রয়েছে, যিনি এই গাড়িতে চাপা পড়ে মারা যাবেন। ধরুন, যিনি মারা যাবেন, তিনি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। ইনসিওর করেননি। ভাগ্যে ঠিক হয়ে রয়েছে, লোকটির মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বিধবা হবেন। ছেলে-মেয়েরা বাবাকে হারিয়ে অনাথ হবে। বিধবা মহিলা কাজ না পেয়ে ভিখারির মতো জীবন যাপনে বাধ্য হবেন।

 যিনি গাড়ি চাপা দেবেন, তিনি আপনাদের সাহায্য নিলেন, নির্ধারিত ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আপনারা তাঁকে এক বা একাধিক গ্রহরত্ন ধারণ করতে বললেন। লোকটি ধারণ করল এবং পূর্ব-নির্ধারিত দুর্ঘটনা ঘটল না।

 ফলে যাঁর গাড়ি চাপা পড়ে মারা যাওয়ার কথা ছিল, কোনও গ্রহরত্ন ধারণ না করেও তাঁর মৃত্যু ঘটল না। এই ঘটনার দরুন যেসব ডাক্তার ও নার্সদের কর্মব্যস্ত থাকার কথা ছিল, তাঁদের সেই বাড়তি কর্মব্যস্ত থাকতে হল না। যে ওষুধের দোকানের ভাগ্যে এই দুর্ঘটনার জন্য বাড়তি ওষুধ বিক্রির বিষয়টা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল, তা হল না। রোগী দেখার দৌড়াদৌড়ির জন্য আত্মীয়-বন্ধুরা ট্যাক্সির পেছনে যে খরচ করতেন, তা ট্যাক্সি-ড্রাইভারদের পকেটে গেল না। স্ত্রী বিধবা হলেন না। সন্তানরা অনাথ হল না। ছেলে-মেয়েদের যিনি পড়াতেন, সেই প্রাইভেট টিউটর টিউশনি হারালেন না। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, কোনও গ্রহরত্ন ধারণ না করা সত্ত্বেও এতগুলো লোকের জীবনের ঠিক হয়ে থাকা ঘটনাগুলো ওলট-পালট হয়ে গেল।

 এবার ধরুন, দুর্ঘটনায় যাঁর মৃত্যুযোগ ছিল, তাঁর ভাগ্য বিচার করলে কোনও জ্যোতিষী নিশ্চয়ই বলতেন, অমুক সময় তাঁর মৃত্যুযোগ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যেত তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

 আমাদের সামাজিক জীবনে আমরা পরস্পরের সঙ্গে এত বেশি যুক্ত যে, একজনের পূর্ব-নির্ধারিত ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলে আরও বহুজনের জীবনের পূর্ব নির্ধারিত ঘটনাগুলো পাল্টে যাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আগে থেকে ঠিক হয়ে থাকা ঘটনাগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হবে।

 আপনারা, জ্যোতিষীরা অনবরত প্রতিকারের মাধ্যমে যদি জাতকদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে থাকেন, তবে কী করে আপনারা বলবেন যে, ভাগ্য পূর্ব-নির্ধারিত?