গেছে খুলে। ক্ষয়ে যাওয়া ধুলো-মাখা চটি। রিহারসল মাফিক তপন জ্যোতিষীর সামনে কথা বলেছিলেন চড়া গলায়, ভুল ইংরেজিতে। ফলে জ্যোতিষীর চোখে ব্যাঙ্ক অফিসার হয়ে পড়েছিল কারখানার কর্মী। আর মোক্ষম ভুলের ফলেই বাকি সব ক্যালকুলেশনই গোলমাল হয়ে গিয়েছিল।
স্টেট ব্যাঙ্কের হেড ক্লার্ক অরুণ মুখার্জিকে জ্যোতিষসম্রাট অসিতবাবু দেখেছিলেন নিপার্ট ধুতি পাঞ্জাবিতে। হাতে মোটা ঢাউস চামড়ার একটা ব্যাগ। ব্যাগের হ্যাণ্ডেলের তলায় গ্লাসটিকের খাপে গোঁজা ছিল একটি ভিজিটিং কার্ড ডঃ অরুণ মুখার্জি পি. এচ. ডি., প্রফেসর, কমপারিজিন লিটারেচর, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালকাটা। অ্যাডভাইজার, ল্যাঙ্গোয়েজ-সেল (ইউ.এন.ও)।
অসিতবাবু অরুণ মুখার্জির জন্ম সময়ের চেয়ে সম্ভবত অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন অরুণ মুখার্জির পোশাক, চোখে দামি চশমাকে। এবং সম্ভবত তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ব্যাগে সাঁটা ভিজিটিং-কার্ডটা এড়াতে পারেনি। সদ্য ছাপা এই ভিজিটিং কার্ডটাই যে সব হিসেব ওলট-পালট করে দেবে, এ বিষয়ে আমি অতিমাত্র, নিশ্চিন্ত ছিলাম।
জাতকদের আমি যে ভাবে, যে রূপে জ্যোতিষীদের কাছে হাজির করেছি, সেই রূপটিকে মাথায় রেখেই জ্যোতিষীরা তাদের নিদান এঁকেছেন এবং মুখ থুবড়ে পড়েছেন।
যুক্তির দিক থেকে না হয় ধরেই নিলাম, জাতকদের জন্ম সময় ভুল ছিল। কিন্তু একই জন্ম সময় নিয়ে জ্যোতিষীরা একটি ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে কেন ভিন্নতর মত দিলেন? আসলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন; দিতে বাধ্য করেছিলাম আমি। ওঁরা জাতকের জন্মসময় আর জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর সামান্যতম নির্ভর করলে একই শাস্ত্র বিচারে ভিন্ন বা বিপরীত ফল নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসত না।
ওরা জাতকদের পোশাক-আশাক কথাবার্তায় নির্ভর করাতেই জ্যোতিষীদের শাস্ত্রের বুলি কপচানো মুখোশটি খুলে পড়ে আসল চেহারাটাই বেরিয়ে পড়েছিল।
আপনারা একই ভাবে নিজেকে আমূল পাল্টে হাজির হন, যে কোনও জ্যোতিষসম্রাট বা ওই জাতীয় কারও কাছে। দেখবেন, আপনি যে সং সেজে নিজেকে হাজির করেছেন, সেটাকে সত্যি ধরে জ্যোতিষী শুধু ভুলই বলে চলেছে। প্রতিটি জ্যোতিষীর ক্ষেত্রেই এই ঘটনাই ঘটবে। এই ঘটনা ঘটতে বাধ্য। আপনি নিজেই হাতে-কলমে পরীক্ষা করে দেখুন না।