পাগলাবাবা জ্যোতিষীর চেয়ে বেশি কিছু
পাগলাবাবা ব্রাকেটে ‘বারাণসী’ কথার ওপর বিজ্ঞাপনে যে চুল, দাড়ি, গোঁফ শোভিত পাগল-পাগল একটি প্রৌঢ়ের ছবি ছাপা হয় সেই ছবির ওপরে লেখা থাকে—‘আপনি কি বিশ্বাস হারিয়েছেন’। পাগলাবাবার দাবি, যে কোনও প্রশ্নের
সঠিক উত্তর দিতে পারেন। তাঁর সেই দাবি পরীক্ষার জন্যেই মুখোমুখি হয়েছিলাম ওই বেতার অনুষ্ঠানে। পাগলাবাবা বেতার অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। এর পর তাঁর ডেরায় গিয়েছিলাম, কিঞ্চিৎ মোলাকাত করতে। কারণ, সত্যি বলতে কী অজানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার একটা ভয় আমাকে পেয়ে বসেছিল। শর্ত অনুসারে বেতার অনুষ্ঠানে আমি মাত্র তিনটে প্রশ্ন করতে পারব, তাঁর দাবির পরীক্ষা নিতে। হয়তো এমন হল, প্রথম প্রশ্নটি হাজির করলাম, পাগলাবাবা সঠিক উত্তর দিয়ে দিলেন, যেমনি হাজার হাজার মানুষকে আজ পর্যন্ত দিয়ে এসেছেন, এবং আমি এই সঠিক উত্তর দিতে পারার কারণটি ধরতে পারলাম না। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হাজির করলাম। পাগলাবাবা সঠিক উত্তর দিলেন। সঠিক উত্তর দিতে পারার কারণটি এবার আমি ধরতে পারলাম। ফলে তৃতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে পাগলাবাবা ভুল উত্তর দিতে বাধ্য হলেন। এত করেও কিন্তু পাগলাবাবার এই সঠিক উত্তর দানের কৌশলটি ধরার সমস্ত গৌরব, সমস্ত প্রয়াসই ব্যর্থ হবে। শ্রোতারা কী শুনবেন? কী ধারণা তাঁদের মধ্যে সৃষ্টি হবে? তাঁরা শুনবেন, বিজ্ঞানের তরফ থেকে হাজির করা তিনটি প্রশ্নের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রেই অলৌকিকক্ষমতা জয়ী। অতএব এই জয়ই বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে অলৌকিকক্ষমতার জয়ের প্রতীক হয়ে উঠবে; তখন এই জয় আর প্রবীর ঘোষের বিরুদ্ধে পাগলাবাবার জয় বলে গণ্য হবে না।
যাঁরা জাদু-শিল্পী তাঁরা জানেন, কোনও একটা নতুন জাদু দেখার সঙ্গে সঙ্গে কোনও একজন দর্শক জাদুকরের পক্ষে তার কৌশল বুঝে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে; এমন কি সেই দর্শক জাদুকরটি ভারতশ্রেষ্ঠ জাদুকর না হয়ে বিশ্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর হলেও।
প্রোগ্রাম রেকর্ডিং-এর আগে পাগলাবাবার ক্ষমতাটা একবার দেখার প্রয়োজনীয়তা
