বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
২৭১

 জিজ্ঞেস করলাম, “ক’টা ফিল্ম তুলেছ? ১৬-১৭টা?”

 কল্যাণ বললেন, “হ্যাঁ, সতেরোটা তুলেছি।”

 বললাম, “ওটা তিরিশে নিয়ে যাও।”

 “বললে নিয়ে যাব। কিন্তু কোনও দরকার আছে কী?”

 “নিশ্চয়ই। কারণ তোমাকে দেখে যেমন আমি অনুমান করতে পেরেছি পরীক্ষার জন্য তুমি এক থেকে ছত্রিশ-এর মধ্যে কত নম্বরকে বেছে নেবে। পাগলাবাবাও তা পারবেন। পাগলাবাবার সঙ্গে একদিন কিছুক্ষণ মেশার সুযোগে যা বুঝেছি, তাতেই মনে হয়েছে বিভিন্ন মানুষের সংখ্যা ভাবার ক্ষেত্রে যে বিভিন্ন মানসিকতা কাজ করে, সেই মনস্তত্ত্ব বিষয়ে উনি ওয়াকিবহাল। লিখে উত্তর দেবার সুযোগ বন্ধ করে দিলেই যে উনি ভুল বলতে বাধ্য হবেন, এমনটা ভাবারও কোন কারণ নেই। উনি তোমার মানসিকতাকে বুঝে নেবার চেষ্টা করবেন। ছত্রিশটা ফিল্মের মধ্যে কতটি তুলেছ, অর্থাৎ ১ থেকে ৩৬-এর মধ্যে একটা সংখ্যা তোমাকে বেছে নিতে বললে তুমি কোন সংখাটি বেছে নিতে চাইবে—এটাই পাগলাবাবা বুঝতে চাইবেন তোমাকে দেখে। এবং পারবেনও দেখে নিও। কিন্তু তুমি ৩০-এ রেখে দেখো, পাগলাবাবা বলতে পারবেন না। কারণ, বাস্তবিকই তাঁর অতীন্দ্রিয়-দৃষ্টিশক্তি নেই। তাঁর মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা সম্বন্ধে আমি ওয়াকিবহাল তাঁর আগাম চিন্তা আমি ধরতে সক্ষম।”

 কল্যাণ আমার কথামতো ১৭কে ৩০-এ নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে হেরে যাওয়া বাজিও জিতে নিয়েছিলাম।

 রেকর্ডিং-এর একটু আগে রঞ্জন সেনগুপ্তকে একটু নির্জনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘সিগারেটের প্যাকেট রেডি?’

 “হ্যাঁ।”

 “কটা সিগারেট রেখেছেন?”

 “আপনাকেও বলব না। কেউ না জানলে জেতার সম্ভাবনা বাড়ে।”

 বলেছিলাম, “সাতটা রেখেছেন না?”

 বিস্মিত রঞ্জন বললেন, “হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কী করে জানলেন?

 বললাম, “সে পরে বোঝাব, এখন প্যাকেটে আর দুটো সিগারেট পুরে ফেলুন।”


 অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হওয়ার কিছুদিন পর কল্যাণ চক্রবর্তী তাঁর এক চিত্র-গ্রাহক বন্ধু কল্যাণ বসাককে নিয়ে এসেছিলেন আমার ফ্ল্যাটে। কল্যাণ বসাক আমার অনুমান-শক্তির প্রমাণ নিতে চেয়েছিলেন, বলেছিলাম, “১ থেকে ১০-এর মধ্যে একটা সংখ্যা ভাবুন তো?”

 কল্যাণ বসাক বললেন, “ভেবেছি।”

 “সাত ভেবেছেন।”