“তা বলতে পারছি না, তবে এইটুকু বলতে পারি তিনি কলকাতার বাইরে যাচ্ছেন। ফিরবেন সাত-আট দিন পর। তখনই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এই বিষয়ে মতামত জানাবেন।”
“তাহলে যেসব ক্লায়েণ্টরা এই ক'দিনের অ্যাপয়েনমেণ্ট পেয়েছেন তাদের কী হবে?”
“সব বাতিল করে দেওয়া হল।” জানালেন সহকারিণী।
সেদিন সন্ধ্যায় আমিও সাংবাদিকদের সঙ্গী হয়েছিলাম। ঘটনাগুলো ঘটেছিল আমারও চোখের সামনে।
না, হোটেলের সামনের পথ ধরে শকুন্তলাদেবী বের হয়নি। সাংবাদিকদের চোখ এড়াতে পিছনের পথ দিয়ে স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পথে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বেচারা, তাড়াহুড়োয় হোটেলের বিল মিটিয়ে সহকারিণীটিকে নিয়ে যাওয়ারও সময় সুযোগ পাননি। আর সেই পালানোর সময় পিছনের দরজায় নজর রাখা চিত্র সাংবাদিক কল্যাণ চক্রবর্তীর নজরে পড়ে গিয়েছিলেন। ফলে ‘সানন্দা’, ‘আলোকপাত’ সহ বিভিন্ন ভাষাভাষীর পত্রিকাতেই চ্যালেঞ্জের মুখে শকুন্তলাদেবীর পলায়নের উত্তেজক খবরের সঙ্গে কল্যাণের তোলা ‘স্বেচ্ছা নির্বাসনে শকুন্তলা’ ছবিটি প্রকাশিত হয়েছিল। হায়, জ্যোতিষসম্রাজ্ঞী! আপনিও শেষ পর্যন্ত পারমিতা, অসিত চক্রবর্তী, শুকদেব গোস্বামী ও পাগলাবাবার মতোই শুধু পরের অদৃষ্টই বিচার করে গেলেন; নিজের অদৃষ্ট বিচার করতে পারলেন না?
১৯৮৭-র ফেব্রুয়ারিই ছিল তাঁর কলকাতায় বাণিজ্য চালাবার, প্রতারণা চালাবার শেষ বছর। তারপর তিনি আর একটি দিনের জন্যেও কলকাতায় ব্যবসা চালাবার হিম্মত দেখাননি, বা আহাম্মুকি করেনি।
ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী পত্র-পত্রিকায় চ্যালেঞ্জের মুখে শকুন্তলাদেবীর নিশ্চিন্ত পরাজয় এড়াতে পালিয়ে বাঁচার দুর্বল চেষ্টার কথা প্রকাশিত হয়েছে এমনও হয়েছে, শকুন্তলাদেবী বোম্বাই বা মাদ্রাজের মত যে বড় শহরগুলোতে গুছিয়ে বসতে গেছেন, সেখানকার স্থানীয় পত্র-পত্রিকাগুলোতেই শকুন্তলাদেবীর পালিয়ে বাঁচার চেষ্টার কথা প্রকাশিত হয়েছে। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের বহু অপ্রিয় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই সব সংবাদপত্র, পত্র-পত্রিকা ও সাংবাদিকরা যখনই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, আমি ওখানে গিয়ে শকুন্তলাদেবীর মুখোমুখি হতে রাজি আছি কি না? প্রত্যেককে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে জানিয়েছি অবশ্য রাজি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শকুন্তলাদেবী সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়া শহর ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্য শহরে। শেষ পর্যন্ত তাড়া খেতে খেতে শকুন্তলাদেবী ভারতের পাট তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।