ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে নিউইয়র্ক থেকে এসেছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. রণজিৎকুমার দত্ত। ড. দত্ত নিউ-ইয়র্ক থেকে ‘Culural Association of Bengal’ কর্তৃক প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সংবাদ বিচিত্রা’র সম্পাদক। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন শকুন্তলাদেবীর সঙ্গে আমাদের সমিতির পক্ষে আমার গোলমাল প্রসঙ্গে বাড়তি কিছু খবর। ‘বাড়তি’ বললাম, কারণ নিউইয়র্কে বসেই কিছু ভারতীয় পত্র-পত্রিকা পড়ে খবরটা আগেই জেনেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, এখনও আমি শকুন্তলাদেবীর মুখোমুখি হতে রাজি আছি কি না? জানিয়েছিলাম, “অবশ্যই। আপনারা আমার যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নিলে ওখানে গিয়েই ওঁর মুখোশ খুলে দিয়ে আসব।”
জানি না, সুদূর নিউ ইয়র্কেও আক্রান্ত হলে শকুন্তলাদেবী কোথায় পালাবেন। পাঠক-পাঠিকাদের সামনে এই প্রসঙ্গে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্পষ্ট ঘোষণা রাখছি—শকুন্তলাদেবীর কাছে আমি পরাজিত হলে আমাদের সমিতি সমস্ত শাখা সংগঠন-সহ জ্যোতিষ-বিরোধী অলৌকিক-বিরোধী সমস্ত রকম কাজকর্ম থেকে বিরত থাকবে। এই কথা আমি লিখছি আমাদের সমিতির একজিকিউটিভ কমিটির মতামত অনুসারে। জানি না, এর পরও শকুন্তলাদেবী আমাদের সমিতির পক্ষে দেওয়া আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার মত সততা ও হিম্মত দেখাবেন কি না?
ঈর্ষায় জ্বলে উঠলেন খুদে হিটলার অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়
এই প্রসঙ্গে একটি অদ্ভুত চিঠির উল্লেখ না করেই পারছি না। চিঠিটির লেখক ‘উৎস মানুষ’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখেছিলেন বর্তমানে তাঁরই কাছের মানুষ এক তথাকথিত বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মীকে। উৎস মানুষের ছাপানো প্যাডে লেখা এই চিঠির কিছু অংশ আপনাদের অবগতির জন্য তুলে দিচ্ছি:
“Philipine-এর Faith healer বা শকুন্তলাদেবী কাউকেই “বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পরাজিত” কেউ করতে পেরেছেন বলে মনে করি না। শকুন্তলাদেবী কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে উঠে কয়েকদিনে যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করে যান, তাতে কলকাতার কোন্ এক বাঙালী বাবুর (তিনি আমাদের কাছে যত বিখ্যাত হোন না কেন) পঞ্চাশ হাজার টাকার চ্যালেঞ্জ ফুৎকারে উড়িতে দিতে পারেন।”
খুবই বাঁচোয়া যে, অশোকবাবুর মানা, না মানা; ইচ্ছে, অনিচ্ছের ওপর পৃথিবীর কোনও কিছুই নির্ভর করে না; যেমনটা নির্ভর করেনি হিটলারের ইচ্ছের ওপর। যা ফেথ হিলাররা স্বয়ং মেনে নিলেন, তাই মেনে নিতে পারলেন না খুদে ডিক্টেটর অশোকবাবু। ফেইথ হিলাররা আমার মুখ বন্ধ রাখার বিনিময়ে ১৯৮৬ সালে চেয়েছিলেন