অধ্যায় : চোদ্দো
জ্যোতিষ সম্মেলনে চ্যালেঞ্জের মুখে জ্যোতিষীরা ছত্রখান
কলকাতা, তথা ভারতের বিশ্বের জ্যোতিষীরা একটি বিশাল মানের ধাক্কা খান ৯ এপ্রিল ১৯৮৮। এই দিনটি জ্যোতিষীদের কাছে ‘কালা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষাকেন্দ্র বসু বিজ্ঞান মন্দিরে ৯ ও ১০ এপ্রিল দু’দিনব্যাপী এক জ্যোতিষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ‘অ্যাসট্রোলজিক্যাল রিসার্চ প্রজেক্ট’। সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল ইত্যাদি প্রতিবেশী দেশ থেকেও নাকি প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বেশ কিছু মন্ত্রী সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছাবাণী পাঠিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে মার্কসবাদে বিশ্বাসী বলে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেই সময়কার দুই মন্ত্রীও ছিলেন। একজন মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও শ্রমমন্ত্রী শান্তি ঘটক এবং অন্যজন রেভিলিউশনারি সোসাইলিস্ট পার্টির নেতা ও পূর্তমন্ত্রী যতীন চক্রবর্তী।
এমন তাজ্জব ঘটনা ঘটাতে পেরে মহা-জ্যোতিষ সম্মেলন ব্যবস্থাপকরা যেমন উল্লসিত হলেন, তেমনই আমরা অবাক ও শঙ্কিত হলাম।
ফরোয়ার্ড ব্লক-নেতা ও মন্ত্রী সরল দেবকে জ্যোতিষ সম্মেলন উদ্বোধন করতে দেখে বা কংগ্রেস-নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিকে শুভেচ্ছাবাণী পাঠাতে দেখে আমরা বিস্মিত হই না। ওঁরা নানা মতের ভোটারদের তুষ্ট করতে ঝোলে-ঝালে-অম্বলে সর্বত্র থাকেন। ওঁদের চরিত্র জলের মতো। আমরা বিস্মিত এবং শঙ্কিত হই, যখন দেখি মার্কসবাদে বিশ্বাসী, দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে বিশ্বাসী বলে পরিচিত এবং মার্কসবাদী দলের দুই বড় মাপের নেতারা সম্মেলনে আহুত জ্যোতিষীদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে মার্কসবাদেরই বিরোধিতা করছেন, কুসংস্কার সৃষ্টিতেই ইন্ধন জোগাচ্ছেন। আমাদের শঙ্কার কারণ, বিজ্ঞানী ও মার্কসবাদী বলে পরিচিত ব্যক্তিদের অস্বচ্ছ চিন্তাধারা সাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে প্রবলতর ভূমিকা নেয়।
সম্মেলনে সরল দেব আমাদের সমাজ-জীবনে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা
২৮২