বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং এই শাস্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। মন্ত্রী হলে সবজান্তা হতেই হয়। পিএ বা সিএ-র লিখে দেওয়া বক্তব্য মুখস্থ করে যে কোনও কিছু নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার অধিকার জন্মায়৷

 প্রথম দিন বক্তা হিসেবে ছিলেন জ্যোতির্বিদ অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্লাইড দিয়ে মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে পরিচিত করালেন। শেষে বললেন, যিনি জ্যোতিষী তাঁর জ্যোতিষচর্চার জন্য সূর্য, চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহের মহাকাশের নিখুঁত অবস্থান পাওয়ার জন্য পঞ্জিকার তথ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। ভারতে দু’ধরনের পঞ্জিকা প্রচলিত। বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র খুললে দেখতে পাওয়া যাবে দিন-পঞ্জিকায় তিথি, নক্ষত্র, সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের সময় দু’রকম দেওয়া আছে—‘দৃক্‌সিদ্ধ মতে’ এবং ‘অন্য পঞ্জিকা মতে’। অর্থাৎ দু'পঞ্জিকা মতে গ্রহ অবস্থান দু'রকমের। এবারের বিজ্ঞানভিত্তিক পঞ্জিকার গণনাপদ্ধতি সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা প্রয়োজন। সারা বিশ্বে আটটি দেশ থেকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূত্রাবলী অনুসারে ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের সাহায্যে গণনা করা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে যত মানমন্দির আছে সেই সব মানমন্দির থেকে দূরবীন দিয়ে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করে জ্যোতিষ্কদের গণিত অবস্থান মিলিয়ে দেখা হয়। তার পর একই সূত্রাবলী প্রয়োগ করে এফিমারিস তৈরি করা হয়। ভারতে শুদ্ধ পঞ্জিকা গণনা বা এফিমারিসের পথিকৃৎ নির্মলচন্দ্র লাহিড়ী।

 এরপর অমলেন্দুবাবু জ্যোতিষীদের প্রতি আহ্বান জানান, আপনারা যাঁরা জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করতে চান, যাঁরা মানুষের ওপর গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব প্রমাণ করতে চান, তাঁরা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে যুক্তি দিন। আমাদের দেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্যোতিষী ছক গণনা করেন গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা, পি.এম. বাগচির পঞ্জিকা দেখে। এই দুই পঞ্জিকায় এবং অধিকাংশ ভারতীয় পঞ্জিকাতেই গ্রহের, সূর্য-চন্দ্রের যে অবস্থান লিপিবদ্ধ থাকে, তা একেবারেই ভুল। এইসব পঞ্জিকার গণনাপদ্ধতি হলো, সূর্য-সিদ্ধান্ত। যে সূর্য সিদ্ধান্ত রচিত হয়েছিল ৫০০ খ্রিস্টাব্দে। অতএব শতকরা ৯৫ শতাংশ জ্যোতিষী যে গ্রহ অবস্থানের ওপর নির্ভর করে গণনা করে চলেছেন, তার কোনও বিজ্ঞান ভিত্তি নেই। জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে হলে বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই এগোতে হবে। আপনারা বাস্তবিকই জ্যোতিষশাস্ত্র-বিজ্ঞান প্রমাণ করার বিষয়ে আন্তরিক হতে চাইলে এফিমারিসের সাহায্যে গ্রহণ করুন।

 অমলেন্দুবাবুর বক্তব্যের সূত্র ধরেই আমি মঞ্চে উঠেছিলাম কিছু প্রশ্ন নিয়ে। বলেছিলাম, অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় অতি সুবক্তা। তাঁর বক্তব্য শুনতে দারুণ লাগছিল; যদিও কিছুই বুঝিনি। আমার ধারণা, এখানে উপস্থিত প্রায় সকলেই বোঝেননি। এজন্য অবশ্য অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষ দেওয়া যায় না। দোষটা