বক্তব্যের ‘বিষয়’-এর। কিছু কিছু বক্তা আছেন, যাঁরা বাচনভঙ্গিতে, আবেগে, গলা-চড়াই উতরাইয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে রাখেন; তা যে বিষয়ের ওপরই বক্তব্য রাখতে বলুন তা কেন। শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাচনভঙ্গি সুন্দর। কিন্তু ‘জ্যোতিষ’ বিষয়টাই এমন নড়বড়ে যে শেষ পর্যন্ত যুক্তির চেয়ে আবেগকে প্রাধান্য দেওয়া ছাড়া সুবক্তার গতি থাকে না।
শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞানের অধিকারী, স্বীকার করি। আপনি জ্যোতিষশাস্ত্রেও বিশ্বাসী, আপনার আঙুলের গ্রহরত্নের আংটিগুলো দেখে তাও স্বীকার করি। কিন্তু আপনি এক্ষুণি জ্যোতিষীদের উদ্দেশে যে উপদেশগুলো দিলেন, ‘জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রমাণ করতে এফিমারিসের সাহায্য নিন’—এই বক্তব্যটি স্বীকার করতে যে কোনও যুক্তিবাদীরই অসুবিধা আছে; আমারও আছে। শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি কি বাস্তবিকই মনে করেন এফিমারিসের সাহায্য নিলে জ্যোতিষীরা জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করতে পারবেন? এই সম্মেলনে ডঃ রামকৃষ্ণ শাস্ত্রী, সমরেন্দ্র দাস, ডঃ সন্দীপ চৌধুরী সহ অনেক নামী দামী জ্যোতিষীই উপস্থিত রয়েছেন। এঁদের অনেকে গ্রহ-অবস্থান নির্ণয়ের জন্য এফিমারিসেরই সাহায্য নিয়ে থাকেন। এঁরা কেউ কি তাত্ত্বিকভাবে এবং অথবা বাস্তবিকভাবে প্রমাণ করতে পারবেন – জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান? শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি কি এঁদের কারও সাহায্য নিয়ে, অথবা অন্য কোনও জ্যোতিষীর সাহায্য নিয়ে কোনও দিন প্রমাণ করতে পারবেন—জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান? এখানে উপস্থিত যেসব শীর্ষস্থানীয় জ্যোতিষী উপস্থিত আছেন, তাঁদের উদ্দেশেও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা কেউ কি এফিমারিসের সাহায্য নিয়ে অথবা এফিমারিসের সাহায্য ছাড়া প্রমাণ করতে পারবেন—জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান? আসলে এফিমারিস কেন, কোনও মারিসের সাহায্য নিয়েই প্রমাণ করা যাবে না, ‘জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান’, ‘গ্রহরাই মানুষের ভাগ্যের নিয়ত্তা’, ‘ভাগ্য পূর্বনির্ধারিত’ ইত্যাদি কথাগুলো।
অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উত্তরে বললেন, আমি আজ খুবই ব্যস্ত। আপনার কথার জবাব দেওয়ার মতো সময় আমার হাতে নেই, মাফ করবেন। বললাম, শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনার উচিত আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, তা যত সংক্ষেপেই হোক। আপনি একটি সম্মেলনে এসেছেন বক্তব্য রাখতে। সেই সঙ্গে কিন্তু আপনার কিছু দায়িত্বও থেকে যায়। আপনার বক্তব্য নিয়ে শ্রোতাদের তরফ থেকে কোনও জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দেওয়া অবশ্যই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যে বক্তা তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাজির হওয়া প্রশ্নের উত্তরদানে আন্তরিক নন; জিজ্ঞাসার জবাব দিতে সময় ব্যয়ের কথা ভেবে কুণ্ঠিত; তাঁদের উচিত কোনও আলোচনাসভায় একতরফা বক্তব্য রাখা থেকে বিরত থাকা।