বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/২৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮৮
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

চেয়েছিল। সত্যিকারের জ্যোতিষদের মুখোমুখি হলে বুঝবেন—কত ধানে কত চাল।

 কিন্তু এতে বরং সদ্য জ্যোতিষ ডিগ্রি পাওয়া জ্যোতিষীরা আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে ধাবিত হয়েছেন শ্রীবিরূপক্ষ এবং তাদের শিক্ষকদের আমার মুখোমুখি করতে। এক সময় ডঃ রামকৃষ্ণ শাস্ত্রীর নেতৃত্বে নামী-দামি জ্যোতিষীদের দল একটি আলোচনায় বসলেন, যুক্তিবাদীদের নিয়ে উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে। ইতিমধ্যে মাইকে ঘোষিত হল, জ্যোতিষীরা আলোচনা করে তাঁদের মতামত জানাচ্ছেন—আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না, মহাজ্যোতিষ সম্মেলনের আলোচনা সাময়িকভাবে সভা বন্ধ। দলে দলে মানুষ অপেক্ষা করছেন। কী হয়! কী হয়! এক সময় বন্ধ কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে উৎকণ্ঠিত শ্রোতাদের সামনে ডঃ শাস্ত্রী ঘোষণা করলেন, প্রবীরবাবু যদি ওই ঘরে আমাদের কয়েকজনের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে চান, আমরা নিশ্চয়ই স্বাগত জানাব।

 বন্ধ ঘরে আট-দশজন জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে লড়া ও প্রকাশ্যে আট-দশজন জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে লড়া এক কথা নয়। বললাম, ওই বন্ধ ঘরে আলোচনায় হারলেও হারব, জিতলেও হারব। ধরুন আলোচনা শেষে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আমি জানালাম, আমি জিতেছি; আপনারা জানালেন, জিতেছেন আপনারা। এই দুটো দাবি কখনই একই সঙ্গে সত্যি হতে পারে না। কিন্তু কার কথা তখন মানুষ সত্যি বলে ধরবেন? আলোচনা হবে অবশ্যই প্রকাশ্যে। এবং এখনই আট দশজন জ্যোতিষীদের সঙ্গে আলোচনায় বিতর্কে আমার অসুবিধে নেই। আবার আলোচনায় বসলেন রথী-মহারথীরা। শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করলেন লাঞ্চ-ব্রেক এর পরে মঞ্চে আলোচনা হবে। তখন বক্তব্য রাখবেন, প্রবীরবাবু আমরাও রাখব।

 ‘লাঞ্চ ব্রেক’ হলো, ইতিমধ্যে যুক্তিবাদী সমিতি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান-মঞ্চের সদস্যরা সভায় বিলি করলেন দুটি প্রচারপত্র। একটিতে ছিল ভারতবিখ্যাত এগারোজন বিজ্ঞানীর ‘গ্রহরত্নের প্রভাব’ বিষয়ে পরীক্ষিত মতামত এবং অপরটিতে ছিল ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির পক্ষ থেকে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ডিরেক্টরকে লেখা একটি চিঠির প্রতিলিপি। চিঠিতে যা লিখেছিলাম, তার বাংলা করলে দাঁড়ায়:

 “আমরা জেনেছি ‘বসু ইনস্টিটিউট’-এর ‘লেকচার হল’-এ জ্যোতিষশাস্ত্রের ওপর একটি তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ৯ ও ১০ এপ্রিল ১৯৮৮।”

 এটা আমাদের পক্ষে খুবই দুঃখজনক। কারণ, যে জ্যোতিষশাস্ত্র কেবলমাত্র অবিজ্ঞান নয়, উপরন্তু বিজ্ঞান-বিরোধী মানসিকতাকে উৎসাহিত করে; সেই