জ্যোতিষশাস্ত্রের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিজ্ঞানে নিবেদিত প্রাণ আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত সংস্থায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই বিষয়টি কোনও কারণে আপনার নজর এড়িয়ে গেছে। আমরা নিশ্চিত যে, সম্মেলনের ব্যবস্থাপকরা বসু বিজ্ঞান মন্দিরের নাম বিজ্ঞানবিরোধী প্রচারে কাজে লাগাবে।
এই কারণে, আমরা অনুরোধ করছি, আপনি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে সচেষ্ট হন এবং আপনার প্রতিষ্ঠানকে ওদের বিজ্ঞান-বিরোধী প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে দেবেন না।
ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধাসহ
প্রবীর ঘোষ
(সম্পাদক)
এই চিঠিতে সঙ্গে স্বাক্ষরকারী হিসেবে ছিলেন আমাদের সমিতির সদস্য ১১ জন বিজ্ঞানী।
না, কথা দিয়েও শেষ পর্যন্ত কথা রাখেননি মহা-জ্যোতিষ সম্মেলনের ব্যবস্থাপকরা। আমাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিলেন না ভয় পাওয়া জ্যোতিষী নামের কাগুজে বাঘেরা।
পরের দিন প্রথম পৃষ্ঠাতেই যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে খবরটা প্রকাশিত হল আনন্দবাজার সহ আরও কিছু পত্রিকায়। ১০ এপ্রিলের আনন্দবাজারে দেখি জ্যোতিষসম্মেলনের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাঁরা আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।
বলপ্রয়োগ করে আমাকে বক্তব্য থেকে বিরত করার জন্য কিছু পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন। প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান সংস্থা ও ব্যক্তিদের মতামত এবং চিঠিপত্র প্রকাশিত হয়। জ্যোতিষ সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের বক্তব্যের মতামত এবং চিঠিপত্র প্রকাশিত হয়। জ্যোতিষ সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আনন্দবাজারে একটি চিঠি দিই। তাতে জানাই, উদ্যোক্তারা বাস্তবিকই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চাইলে তাঁরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পরে নির্ধারিত কোনও একটি দিনে আমরা মৌলালি যুবকেন্দ্রে উৎসাহী শ্রোতাদের সামনে উপস্থিত হতে পারি। ‘জ্যোতিষ বনাম বিজ্ঞান’ এই আলোচনাক্রমের আয়োজন করার দায়িত্ব নিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ’ প্রস্তুত। চিঠিটি ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত হয় আনন্দবাজারে।
না, এরপর উদ্যোক্তারা আর এগিয়ে আসেননি। ইণ্ডিয়ান ‘ইনস্টিটিউট অব অ্যাসট্রোলজি’ তারপর বাংলায় একটি ইস্তাহার ছেড়েছেন। তারই একটি আমারও হাতে এসেছে, তাতে আমি জ্যোতিষীদের বিরুদ্ধে সে সব প্রশ্ন ইতিপূর্বে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তুলেছি, সেগুলো তুলে দিয়ে জানাচ্ছেন, “এইসব প্রশ্নের যুক্তিনির্ভর উত্তর আমাদের সদস্য পাঠকবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে আহ্বান করছি।অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]—১৯